সুদানের যে রিসোর্টের আড়ালে ইহুদিদের পাচার করত মোসাদ

সুদানের যে রিসোর্টের আড়ালে ইহুদিদের পাচার করত মোসাদ

অত্যন্ত আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পট ছিল এরাউজ রিসোর্ট। ছবি : বিবিসি

চমৎকার একটি রিসোর্ট ছিল সেটি। বিনোদনের প্রায় সব উপকরণ ছিল তাতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের কারণে মনে হতো সাগরের তীরে তপ্ত মরুভূমির মাঝে এক টুকরো স্বর্গ ।

ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পট ছিল এরাউজ রিসোর্টটি। লোহিত সাগরের তীরে সুদানের মরুভূমিতে গড়ে উঠেছিল  এটি।

কিন্তু পিলে চমকানো খবর হলো, বাইরে থেকে দেখতে যা, আসলে রিসোর্টটি ছিল ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি অপারেশন সেন্টার। এখান থেকেই পরিচালিত হয়েছে অপারেশন মোসেস। অর্থাৎ সুদানের শরণার্থী শিবিরে অবরুদ্ধ ইথিওপিয়ান ইহুদিদের গোপনে ইসরাইলে পাঠানো। আশির দশকের শুরু থেকে প্রায় চার বছর মোসাদ এই রিসোর্ট চালিয়েছে। আর তলেতলে পাচার করেছে ইহুদিদের। পরে যখন সব কিছু ফাঁস হয় ততদিনে প্রায় ১৮ হাজারের মতো ইহুদি পৌঁছে গেছে নিরাপদস্থল ইসরাইলে।

সুদানি সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার নাকের ডগায় এতকিছু হলেও ঘুণাক্ষরেও কিছুই সন্দেহ করেনি।

বেটা ইসরাইলি নামে পরিচিত ছিল এই ইহুদিরা। যারা, হারিয়ে গিয়েছিল ইতিহাসের অন্ধকার গহবরে ।

এ অপারেশন যেমন ছিল গোপনীয় তেমনি ছিল বিপৎসংকুল ।

সুদান থেকে ইহুদিদের ইসরাইলে পার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পালন করেন ফেরিড আকলুম (বামে) । ছবি: বিবিসি।

শুরুটা ইথিওপিয়ার নাগরিক ফেরিড আকলুমকে দিয়ে। ইহুদি ধর্মাবলম্বী ফেরিডকে ১৯৭৭ সালে ইথিওপিয়ান সরকার ওয়ান্টেড ঘোষণা করে। কারণ, তিনি সরকারবিরোধী কাজ ও ইহুদি লোকজনকে দেশত্যাগ করে ইসরাইলে যাওয়ার প্রলোভন দেখাতেন।

ইথিওপিয়ায় তখন চলছে গৃহযুদ্ধ, খাবারের তীব্র সংকট। প্রাণ বাঁচাতে স্রোতের মতো মানুষ আশ্রয় নেয় সুদানের শরণার্থী ক্যাম্পে। স্রোতের মিছিলে ছিলেন ফেরিড ও অপরাপর ইহুদিরাও। শরণার্থী ক্যাম্পে বিভিন্ন ত্রাণসংস্থা কাজ করত। অবরুদ্ধ ইহুদিদের ইসরাইলে ফিরিয়ে নেওয়ার আকুতি জানিয়ে চিঠি লেখা শুরু করেন ফেরিড। আর এসব চিঠি ত্রাণসংস্থার লোকজনের হাতে গুঁজে দিতেন। এমন অসংখ্য চিঠির একটি এসে পৌঁছায় মোসাদের সদর দপ্তরে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তখন মেনাচেম বেগিন। তিনি নিজেও নাজি দখলকৃত ইউরোপের শরণার্থী ছিলেন। বেটা ইসরাইলিদের দুর্দশার সঙ্গে নিজের ফেলে আসা অতীতের মিল খুঁজে পান। তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আদেশ দেন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

শুরু হলো কর্মযজ্ঞ। ওই অঞ্চলের মোসাদের অপারেটিভ ছিল দানি। তার উপর দায়িত্ব বর্তায় সবার আগে ফেরিডকে খুঁজে বের করার ও ইহুদিদের  গোপনে ইসরাইলে নিয়ে আসার।

কারা এই বেটা ইসরাইলি

বেটা ইসরাইলিদের ইতিহাস রহস্যাবৃত, দীর্ঘ ও জটিল। অনেক গবেষকই নিশ্চিত নন, ঠিক কখন ও কীভাবে ইহুদি লোকজন ইথিওপিয়ায় গেল। কেউ বলেন তারা ইসরলাইটিস সম্প্রদায় থেকে উদ্ভূত। কেউ বলেন প্রাচীন ইসরাইলের গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে ইথিওপিয়াতে গেছে তারা। আবার কেউ বলেন, ৫৮৬ খ্রিস্টপূর্বে জেরুজালেমে ইহুদি মন্দির ধ্বংস হলে পালিয়ে ওখানে আশ্রয় নেয় তারা।

বোটে করে ইহুদি পাচার করা হতো ।  ছবি: বিবিসি।

তাদের কিছু রীতিরেওয়াজ হিব্রু ঐতিহ্য থেকে আলাদা। তারপরও বেটা ইসারাইলিদের মূলধারার ইহুদিরা স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, বেটা ইসরাইলিরা কথিত হারিয়ে যাওয়া ১০ সম্প্রদায়ের একটি। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে ইসরাইলি রাজত্ব বহিরাক্রমণের শিকার হলে এরপর ওরা হারিয়ে যায়।

ইহুদিদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তাওরাতে বিশ্বাসী বেটা ইসরাইলিরা। যারা সিনাগগের মতো একই ধরনের ভবনের ভেতর প্রার্থনা করে। কিন্তু, এরা কয়েক শতক ধরে বিশ্বের বাকি ইহুদিদের কাছ থেকে ছিল বিচ্ছিন্ন। বেটা ইসরাইলিরা জানত, ওদের এই সম্প্রদায় ছাড়া, সারা পৃথিবীর আর কোথাও, কোনো ইহুদি বেঁচে নেই।

নেদারল্যান্ডসের লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন এবিংকের মতে, ওদের ইতিহাস কিছুটা রহস্যের আড়ালে ঘেরা। তবে প্রমাণ রয়েছে অন্তত দেড় হাজারেরও বেশি সময় ধরে ওরা ইথিওপিয়াতে বসবাস করছে। অনেকে বলেন, কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে তাদের।

ওদিকে, খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মতো অবস্থা দানির। ফেরিডের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে একদিন খার্তুমে ফেরিডের খোঁজ মেলে। দানি ও ফেরিড  দু’জনে মিলে পরিকল্পনা করেন কীভাবে বেটা ইসরাইলিদের পাচার করা যায়। ফেরিড ইথিওপিয়ায় তার সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছে খবর পাঠান। ওদেরকে প্রস্তুতি নিতে বলেন, সুদান হয়ে জেরুজালেম যাওয়ার জন্য।   

ওদিকে, খার্তুম থেকে বিমানে করে কয়েকজনকে পাঠানো হয় ইসরাইলে। কিন্তু মানুষজনের সংখ্যা যখন বাড়তে লাগল, স্পষ্ট হলো, এভাবে আর চলবে না। ইহুদিদের পার করার ভিন্ন পথ খুঁজতে হবে।

দানি বলেন, আমি সমুদ্রপথের কথা ভাবছিলাম। কারণ, আমরা যদি লোহিত সাগর দিয়ে ওদের পার করতে পারি, যদি তীরে বড় নৌকা আসে, তাহলে আরো বড় পরিসরে কাজটি সম্পন্ন করতে পারতাম।

সেই মতে শুরু হয় নতুন পরিকল্পনা। যা ছিল সিনেমার কাহিনির চেয়েও রোমাঞ্চকর।

পর্যটক টানতে এমন পোস্টার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ইউরোপজুড়ে। ছবি : ডেইলি মেইল।

১৯৭৪ সালে ইতালিয়ান উদ্যোক্তারা সাগরের তীরে এরাউজ রিসোর্টটি নির্মাণ করেছিল । পাঁচ বছর সফলতার সঙ্গে তারা এটি পরিচালনা করে। কিন্তু সুদানি কর্মকর্তাদের সাথে গোল বাঁধলে তারা ব্যবসা গুটিয়ে নেয়।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক পর্যটন কোম্পানির পরিচালক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সুদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন দানি। আড়াই লাখ ডলারে রিসোর্ট ভাড়া নেন তিনি।

সুদানের আন্তর্জাতিক ট্যুরিস্ট করপোরেশনও খুশি। দানি বুঝিয়েছিল বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি পর্যটক আসলে লাভবান হবে সুদান।

প্রথম বছর দানি এবং তার দলের সদস্যরা রিসোর্টটি সংস্কার করেন। ওদিকে, ইসরাইল থেকে চোরাই পথে আনা হচ্ছিল নানা সরঞ্জাম। স্থানীয় ১৫ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।

তারাও জানত না যে তাদের ককেশীয়ান ম্যানেজাররাও একেকজন ইসরাইলি এজেন্ট। সন্দেহ যাতে উদ্রেক না হয়, আর সব রিসোর্টের মতো নারী কর্মীদের দিয়ে দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন করা হতো। ডাইভিং স্টোর রুমটি ছিল সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই রুমেই ছিল গোপন রেডিও। যা দিয়ে এজেন্টরা তেলআবিবে মোসাদের সদরদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করত।

ওদিকে, পর্যটক আকর্ষণের জন্য বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হলো। সমুদ্রসৈকতের রৌদ্রোজ্জ্বল ছবি, পাশেই স্কুবা ডাইভিংয়ের পোশাক পরা হাস্যোজ্জল যুগল, সমুদ্রের নীলজলে ভেসে বেড়ানো হরেক রংয়ের মাছ, প্রবালের বাগানে সাঁতরে বেড়াচ্ছে ডাইভার। এমন লোভ উদ্রেককারী ছবি দিয়ে সারা ইউরোপজুড়ে প্রচার হতো বিজ্ঞাপন ।

এই আহবান এড়ানো ছিল কষ্টের।  জেনেভা ও খাতুর্মের অফিস থেকে আগেভাগেই সব রুম বুকিং হয়ে যেত। প্রশংসায় ভেসে যেত পর্যটকদের মন্তব্যের জন্য রাখা বইটি। 

রিসোর্টে ছুটি কাটাতে ওই সময় সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও আসত। যেমন: মিসরীয় সেনাবাহিনী, ব্রিটিশ সৈন্য,  খার্তুমে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং সুদানের কর্মকর্তারা।

ব্যবসায়িকভাবে সফল হয় রিসোর্টটি। আসতে থাকে মোটা অংকের টাকা। বেশিরভাগ টাকা গোপনে চলে যেত মোসাদের সদরদপ্তরে। আর বাকিটা ব্যয় হতো শরণার্থী পারাপারের পেছনে।

রাতে যাদের পাচার করা হতো, দিনে তারা রিসোর্টে ঘুরে বেড়াত অতিথিদের মতো। তাদেরকে জানানো হতো না কোথায় নেওয়া হবে। শুধু রাতে তাদেরকে নিরবে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলা হতো, সময় হয়েছে , এবার চল।

ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মেনাচেম । ছবি : উইকিপিডিয়া।

রাতের আঁধারে লরিতে ঢোকানো হতো বেটা ইসরাইলিদের। অপারেশনের প্রথম দিকে, যানবাহনগুলো তল্লাশি ফাঁড়ির সামনে দিয়েই যেত। কিন্তু একবার এক গার্ড গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে এভাবে  পাচার বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে রিসোর্ট থেকে ছোট নৌকায় করে নেওয়া হতো কিছুটা গভীর সাগরে। সেখানে অপেক্ষমান থাকত ইসরাইলি জাহাজ। নৌকা থেকে ওদের উঠানো হতো জাহাজে, তারপর সেই জাহাজ পৌঁছে যেত ইসরাইলে। 

সুদানি পুলিশ একবার এ তৎপরতা দেখে ফেলে। কিন্তু ওরা সেবার মনে করেছিল চোরাকারবারীরা।

সতর্ক হয়ে যায় এজেন্টরা। ভাবল, নৌপথে শরণার্থী অপসারণটাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা উপযুক্ত ল্যান্ডিং স্পট খুঁজতে লাগলেন, যেযখানে সি ১৩০ হারকিউলিস বিমান নামতে পারে।

১৯৮২ সালের মে মাসের এক গভীর রাতে বিমানটি ল্যান্ড করে মরুভূমিতে। কমান্ডোদের সবুজ আটসাটো পোশাক মনে হয়েছিল এলিয়েনের মতো কিছু একটা। তারাই এতোটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল, যে বিমানেরর ভেতরেই ঢুকতে চায়নি।

ইসরাইলি সি১৩০ বিমান। ছবি : উইকিপিডিয়া

রাতের বেলা বিমানের শব্দে সুদানি কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরিকল্পনার করে এমবুশের। বিমানের জন্য আবারো নতুন ল্যান্ডিং সাইট খুজতে নামে গোয়েন্দারা। এমন একটি স্থানের খোঁজও মেলে। সেটা ছিল কাছাকাছি এক মরুভূমির মধ্যে। 

কিন্তু সেই এয়ার স্ট্রিপসে বাতি জ্বালানো হতো কদাচিৎ। এজেন্টদের কাছে ছিল মাত্র ১০টি ইনফ্রারেড লাইট। দীর্ঘ ও একঘেয়ে  ফ্লাইটরে পর নেভিগেশনাল সাহায্য ছাড়াই অন্ধকারে ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করতেন  সি-১৩০ এর পাইলটরা।

নানা জটিলতা ও  ব্যর্থ হলে সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিণতির আশঙ্কার মধ্যেও ১৭টি ক্লান্ডেস্টাইন ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

১৯৮৪ সালের শেষের দিকে সুদানে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়। ইহুদি শরণার্থী অপসারণের গতি আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত  হয়।

আমেরকিার হস্তক্ষেপে এবং বিশাল অংকের অর্থের বিনিময়ে সুদানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জাফর নাইমেরি, সম্মত হন ইহুদি শরণার্থীদের সরাসরি ফ্লাইটে করে খার্তুম থেকে ইউরোপে যেতে দেবেন।

কিন্তু শর্ত দেন আরব বিশ্বে বিরুপ প্রতিক্রিয়া এড়াতে, একেবারে গোপনে সারতে হবে কাজ।  ইহুদি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বোয়িং বিমান দিয়ে এভাবে একে একে ২৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

মোট ৬৩৮০ জন ইথিওপিয়ান ইহুদিকে উড়িয়ে নেওয়া হয় ব্রাসেলসে, তারপর সেখান থেকে সরাসরি ইসরাইলে।

গণমাধ্যমকে পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়। তারপরও খবরটি ফাঁস হয়ে যায়।  ১৯৮৫ সালের ৫ জানুয়ারি সারাবিশ্বের গণমাধ্যমে একযোগে খবরটি প্রকাশ করে।

সারা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। তৎক্ষণাত সুদান সরকার ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়।

ইসরাইলের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করেছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে একে ইহুদি-ইথিওপিয়ান ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে সুদান সরকার।  

দুই মাস পর তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রের সরাসরি অনুরোধের প্রেক্ষিতে আরো ৪৯২জন ইথিওপিয়ান ইহুদিকে দেশত্যাগের অনুমতি দেয় সুদান সরকার।

সুদানের প্রেসিডেন্ট জাফর নিমেরি। ছবি: উইকিপিডিয়া

ওদিকে অপারেশন স্থগিত থাকলেও রিসোর্টের কার্যক্রম চালাতে থাকে মোসাদ। অন্যদিকে, সুদানের পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করে। প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে জনগণ রাস্তায়।

১৯৮৫ সালের ৬ এপ্রিল প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করে ক্ষমতা দখল করে দেশের সামরিক বাহিনী। আরব বিশ্বের কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার রাখতে মোসাদের প্রধানকে দ্রুত রিসোর্ট ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

 একটি সি ১৩০ বিমান একদিন রিসোর্টের উত্তরের একটি গোপন ল্যান্ডিং স্পটে অবতরণ করে। সর্বশেষ  যে ৬ জন এজেন্ট ছিল রিসোর্টে তারা সটকে পড়ে।

তখনো রিসোর্টে অনেক পর্যটক। ভোরে তারা যখন ঘুম থেকে উঠে, দেখেন  সেই মরুভূমিতে তারা ছাড়া আর কেউ নেই। স্থানীয় স্টাফরা থাকলেও, ডাইভিং প্রশিক্ষক, নারী ম্যানেজার এবং সবকজন ককেশীয়ান কর্মকর্তাদের কেউই নেই।

তেলআবিবের একটি বিমান ঘাঁটিতে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে।

অবাক করা ব্যাপার হলো, সুদানি যে যানবাহনে করে তারা বিমানে উঠেছিল, সেই একই বাহনে করে বিমান ঘাঁটি ত্যাগ কওে ওরা।

 এরপর বন্ধ করে দেওয়া হয় রিসোর্টটিভ।

১৯৮০ সালে ফেরিড আকলুমের পরিচয় ফাঁস হলে তাকে গোপনে নিয়ে যাওয়া হয় ইসরাইলে। ২০০৯ সালে তিনি মারা যান। মোসাদের তৎকালীন প্রধান, সাবেক প্রধানসহ হাজার হাজার ইথিওপিয়ান ইহুদি এসে জড়ো হয় তার অন্তেষ্টিক্রিয়ায়। জাতীয় বীরের সম্মান পান তিনি।

‘রেড সি ডাইভিং রিসোর্ট সিনেমার পোস্টার। ছবি : ডেইল মেইল।

‘রেড সি ডাইভিং রিসোর্ট’ নামে একটি সিনেমা কিছু দিন আগে মুক্তি দেয় নেটফিক্স।  নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় সিনেমার শুট্যিং হয়েছে। নামিবিয়ায় রিসোর্টটি পুনরায় নির্মিত হয়েছিল। আসল ঘটনার উপর ভিত্তি করে নয়, বরং ওই ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে  চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়। দানি চরিত্রে অভিনয় করেন ক্যাপ্টেন আমেরিকা খ্যাত ক্রিস ইভান্স।

তথ্যসূত্র : বিবিসি, টাইম, ডেইলি মেইল উইকিপিডিয়া।

লেখক : পলাশ সরকার

এখানে মন্তব্য করুন :