সাফল্যের এক ডজন সূত্র

সাফল্যের এক ডজন সূত্র

জীবনের প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগান। ছবি : উহকি হাউ

আমরা সফল হতে চাই, কিন্তু সাফল্যের সূত্র মানতে চাই না। যারা সফল তাদের দেখে হা হুতোশ করি, আর ভাবি, ইশ! আমিও যদি অমনটা হতে পারতাম !
আর মনে মনে দু:খ পাই। এমন নয়, সফল ব্যক্তিরা জাদুবলে সব করে ফেলেছেন। বরং গভীরভাবে খেয়াল করলে দেখা যাবে, তারা নির্দিষ্ট কিছু টেকনিক সবসময় মেনে চলেন। এমনই এক ডজন বিষয় তুলে ধরা হলো।


ভিন্নভাবে নিজেকে তুলে ধরা
অনেক ভালো কাজ করেন আপনি, কিন্তু সবসময় এর স্বীকৃতি নাও পেতে পারেন। আপনি যদি পাওয়ারফুল কিছু একটা হতে চান, মনে রাখবেন কর্মনিষ্ঠ হওয়াই শেষ কথা নয়।
আপনার ‘দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে পারা’র বৈশিষ্ট্য বসের চোখে নাও পড়তে পারে। সাফল্য ও খ্যাতি অর্জনকারী ব্যক্তি শুধু কঠোর পরিশ্রমই করেন না; স্বীকৃতিটাও আদায় করে নেন।
যদি নিজেকে আলাদা না করতে পারেন, আপনি ছবির দৃশ্যপটের মতো হারিয়ে যাবেন। আড়ালে চলে যেতে পারে আপনার কাজ, আপনি কতটা দক্ষ ছিলেন ভুলতেও সময় নিবে না কারো ।
তাই জীবনের প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগান। প্রমাণ করুণ নিজেকে। আপনি যদি আলাদা করে নিজেকে চেনাতে পারেন, তাহলে সবার আগে আপনিই সাফল্য অর্জন করতে পারেন।

মনের ইচ্ছা গোপন রাখুন


সবসময় নিজের মনের কথা সবার আগে প্রকাশ করবেন না। আগে শুনুন।
চশমার ফ্রেম কিনতে গেলেন। সেলসম্যানকে গিয়ে যদি প্রথমেই বলেন, এই ফ্রেমটাই আমার পছন্দ, সঙ্গে সঙ্গে বেশি দাম হাঁকাবে সেলসম্যান।

কারণ, আলাপের মাধ্যমে আপনি তার হাতে দর কষার লাগাম তুলে দিয়েছেন। ফ্রেম পছন্দ হলেও প্রকাশ করবেন না। এমন হাবভাব করুন, যাতে মনে হয় ওই ফ্রেম না হলেও চলে।
এতে দর কষাকষি নিয়ন্ত্রণের চাবিটা থাকবে আপনার হাতেই। তখন সেলসম্যান মনে করবে, ক্রেতাকে তুষ্ট করা তার দায়িত্ব। এক্ষেত্রে তিনি দর কম হাঁকিয়েও পণ্য বেচতে চাইবেন।

তর্কে জড়াবেন না


কারো সঙ্গে তর্কে জিতলে মনে হতে পারে আপনি বিরাট কিছু একটা করে ফেলেছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, যেকোনো তর্কে জেতাই মানে হলো কোনো কিছু না জেতা।
তাই কারো সঙ্গে তর্ক করে নিজের সময় নষ্ট না করে বরং অপরপক্ষকে জিততে দিন। দেখবেন বিজয়মুকুট আপনারই থাকবে।

নিরবতাই সৌন্দর্য


যত কম কথা বলবেন, ততো আপনার কথার গুরুত্ব বাড়বে। শুধুমাত্র প্রয়োজনে কথা বললে, দেখবেন প্রতিটি শব্দ ওজনদার হবে।
এরপর কথা শুরু করলে মানুষজন বুঝবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা বলতে চাচ্ছেন। বেশি কথা বললে শব্দের মূল্যও কমে যায়। খেয়াল করলে দেখবেন, কথা কম বলা মানুষ ছোটখাটো ভুলও কম করে।

আত্মবিশ্বাসী হতে হবে সবার আগে, ছবি: উহকি হাউ

আত্মবিশ্বাসী হোন


জীবনে ঝড়ঝাপ্টা আসবে। আপনি হোঁচট খাবেন, ভেঙে পড়তে পারেন। মনে হতে পারে জীবন বুঝি এখানেই শেষ। তখন মস্তিষ্কও বলতে থাকে, আর আশা নেই।
যারা এ পর্যায়ে প্রতিবন্ধকতার কাছে আত্মসমর্পণ করেন, তারা আসলে মানসিক শক্তি অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছোট ছোট অর্জন ও জয়কে উদযাপন করতে শিখুন। এসব বিন্দু বিন্দু বিজয় বড় কোনো সাফল্য অর্জনের জন্য আপনাকে ক্রমাগত উৎসাহ দিবে।

মানুষ মাত্রই নিজের স্বার্থ আগে দেখে

আপনি যদি কারো কাছ থেকে সুবিধা চান, ভাববেন না কেউ নি:স্বার্থচিত্তে কিছু করে দেবে। মানুষ তখনই সাহায্য করে যখন সে বিনিময়ে কিছু পাবার সুযোগ দেখে।
তাই কোনো ব্যাপারে একদম বিনামূল্যে কিছু পাওয়ার আশা পরিহার করুন। আপনি বাস্তবতার আলোকে পরিস্থিতি বিচার করতে পারেন।

ছবি : উহকি হাউ

অপ্রয়োজনীয় অঙ্গীকার পরিহার করুন


অঙ্গীকার কখনো কখনো বিপত্তি সৃষ্টি করে। যেটা পারবেন না, বা করবেন না সে ব্যাপারে কখনো অঙ্গীকারও করবেন না। মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষেরা অঙ্গীকার না করে একটি বিষয়কে নানা দৃষ্টিকোণ ও প্রেক্ষাপট থেকে চিন্তা করে।
সম্ভাব্য সবগুলো পথে তারা পা ফেলে রাখে, যাতে সব পরিস্থিতিই সামলানো যায়। শক্তিশালী মানুষরা শুধু একজনের কাছেই অঙ্গীকার করে আর সে হলো নিজের কাছে।


বুদ্ধিমান হিসেবে জাহির করবেন না


নিজেকে বুদ্ধিমান হিসেবে জাহির করলে মানুষজন আপনার ব্যাপারে সতর্ক হয়ে যাবে। তারচেয়ে বরং কখনো কখনো নিজেকে একটু বোকাভাবেই উপস্থাপন করে দেখুন না। দেখবেন, অপরপক্ষ নিজের ব্যাপারে দম্ভ করবে, যা আদতে আপনারই কাজে আসবে।


বসদের সাহায্য করুন


সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে আপনার উপরওয়ালার সুদৃষ্টি আপনার লাগবেই। তাই এমন আচরণ করবেন না যাতে তিনি আপনার উপর রুষ্ট হয়। তার শত্রু না হয়ে বরং শক্তিশালী ডান হাত হওয়ার চেষ্টা করুন। বস যার উপর ক্ষুব্ধ থাকেন, তার ভবিষ্যত কী হতে পারে সেটা নিশ্চয়ই বিস্তারিতভাবে বলার দরকার নেই।

মনোযোগী হন


আপনি অনেক কাজ করতে পারেন। অনেক বিষয়ের উপর আপনার দক্ষতা রয়েছে। কিন্তু মনে রাখবেন মাস্টার অব অল ট্রেইড না হয়ে বরং একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ফোকাস করে সে বিষয়ের উপর সেরাটা হওয়াই শ্রেষ্ঠ।
আর আপনি যখন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর আপনার সব মনোযোগ নিবদ্ধ করবেন, সেখান থেকে সোনা ফলতে বাধ্য।

শান্ত থাকুন


সব পরিস্থিতিতে শান্ত থাকুন। যেহেতু আমরা এখন সময় দ্বারা চালিত, সময়ই আমাদের পরিচালন করে, সে ক্ষেত্রে সময় আমাদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বাড়িয়ে দেয়।
এর থেকে রেহাই পেতে সময় ব্যবস্থাপনা শিখুন। সময়ের কাজ সময়ে করুন। দেখবেন দু:শ্চিন্তা উধাও। যেকোনো মিটিংয়ের নিয়ন্ত্রণের সুতো আপনার হাতেই থাকবে।
সময়ক্ষেপণ করবেন না, যা প্রয়োজন করে ফেলুন: কোনো একটি কাজ করতে হবে, কিন্ত আজ না কাল করব, এমন করে করে কাজটা ফেলে রেখেছেন।
দেখবেন কাজের বোঝা জমতে জমতে পাহাড় সমান হয়েছে, কিন্তু কাজ আর শুরুই করা হচ্ছে না। তাই আগে শুরু করুন। যেটা করতেই হবে, সেটা এখনই করে ফেলুন।

এখানে মন্তব্য করুন :