শিশু দেরিতে কথা বলছে?এই কাজগুলো করে দেখুন

শিশু দেরিতে কথা বলছে?এই কাজগুলো করে দেখুন

পরিচিত চারটি পরিবারের কথা দিয়ে শুরু করি।

তিতলীর বয়স ৩ বছর ২ মাস। তিতলীর জন্মের বছর দেড়েক পরই ওর ছোট ভাই তিষাণ জন্ম নেয়। পরপর দুটো শিশু জন্ম দেওয়া, তাদের দেখভাল করতে গিয়ে এবং ছোট জনকে নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় বলে তিতলীর মা এবং অফিসের ব্যস্ততার কারণে বাবাও ওর সাথে কথা বলা বা খেলার খুব একটা সময় পান না ।

দিনে বেশ কিছুটা সময় তার টিভি দেখে কিংবা ইউটিউবে রাইমস দেখে কাটে । এখন সে একটি বা দুটি শব্দ বলতে পারে  কিন্তু বয়স উপযোগী কথোপকথন বা যোগাযোগ করতে পারে না।

রামীমের বয়স প্রায় চার বছর। মা-বাবা দুজনেই চাকরিজীবী । বেশিরভাগ সময় রামীম নানু এবং গৃহকর্ম সহায়তাকারীর কাছে থাকে এবং তাকে শান্ত রাখার জন্য, খাওয়ানোর জন্য অধিকাংশ সময়ই মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপে রাইমস দেখতে দেওয়া হয় । একটি দুটি শব্দ বলতে পারলেও পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক বাক্য বলতে পারে না রামীম ।  

রুমির বয়স চার বছর। বাসায় মা-বাবা, দুই বছর বয়সী ভাই ছাড়াও আছে কিশোরী একজন গৃহকর্ম সহায়তাকারী। একেবারে ছোটবেলা থেকেই মা-বাবা দুজনেই রুমির সাথে প্রচুর কথা বলেন এবং ওদের সাথে খেলেন।   দুটো ভাই-ই বেশ তাড়াতাড়ি কথা বলতে শিখেছে । তাদের স্ক্রিন টাইম মোটামুটি নিয়ন্ত্রিত ।  

মিতিদের যৌথ পরিবার।  মিতির নিজের কোন ভাইবোন নেই।  বাসায় প্রচুর মানুষজন, যেমন দাদু, চাচা চাচী,  সমবয়সী কাজিন, গৃহকর্ম সহায়তাকারী খালা আছেন। সবার সাথে কথা বলার, সময় কাটানোর এবং খেলাধুলা করার প্রচুর সুযোগ আছে।

মিতি কথা শিখেছে খুব অল্প বয়সে। মাত্র তেরো মাস বয়সেই সে ‘এতা দাও’ , ’বাইরে যাবো’ জাতীয় দু শব্দের বাক্য তৈরি শিখেছিল। এখন আড়াই বছর বয়সে সে মোটামুটি সব ধরনের কথাই বলতে, বুঝতে পারে/ এমনকি বানিয়ে বানিয়ে ছড়া গান করতেও পারে।  মিতিদের বাসায় টিভি নাই, ফোনে গেমস ইন্সটল করা নাই। দিনে দুবার শুধু ইউটিউব দেখার সুযোগ পায়। তাদের স্ক্রিন টাইম খুবই কম।

শুধুমাত্র উপরের চারটি ক্ষেত্রেই নয়, আজকাল শিশুদের দেরিতে কথা বলা ,বেশ খানিকক্ষণ কথা চালিয়ে যেতে  না পারা কিংবা একেবারেই কথা না বলা খুব পরিচিত একটি সমস্যা।

এই সমস্যাগুলোর পেছনে অনেকগুলো বিষয় দায়ী- বিশেষত, শিশুদের স্ক্রিন টাইম ভয়াবহভাবে বেড়ে যাওয়া, সমবয়সী শিশুদের সাথে খেলাধুলা না করা,  কথা বলার সুযোগ না পাওয়া, পরিবারের সদস্য/ প্রতিবেশীদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ না পাওয়া ইত্যাদি।

এখনকার শিশুদেরকে অনেক মা-বাবাই চার পাঁচ মাস বয়স থেকেই খাওয়ানোর জন্য, শান্ত রাখার জন্য, নিজেদের ব্যস্ততার কারণে অনেকটা সময়ই নানারকম ডিভাইস ব্যবহার করতে দেন।  অথচ নানা গবেষণয় দেখা গেছে যে, ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সি বাচ্চাদের অতিমাত্রায় ডিভাইস ব্যবহারের কারণে দেরিতে কথা বলা বা স্পিচ ডিলের সমস্যা থেকে শুরু করে নানা আচরণগত সমস্যা বেশি হচ্ছে।

কোন বাচ্চা যখন ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব বা ডেক্সটপে কার্টুন বা ইউটিউবে ভিডিও দেখে ওরা দেখতে ও শুনতে পায়।

 কিন্তু এখানে যেহেতু আই কন্টাক্ট করার কোনো ব্যাপার নেই এবং এটা যেহেতু ওয়ান ওয়ে  কমিউনিকেশন সেহেতু বাচ্চা বুঝতে পারে না সে কিভাবে কথা বলবে বা কিভাবে আই কন্টাক্ট করবে ।

কার্টুনের চরিত্রগুলো যেহেতু নিজেরাই অনবরত কথা বলে তাই শিশু মনে করে যে তার সামনের মানুষেরাই শুধু কথা বলবে; যোগাযোগের জন্য তারও যে কথা বলতে হবে সেটা সে বোঝে না। 

তাই তার কথা বলার ইচ্ছা বা সক্ষমতা গড়ে ওঠে না। এছাড়া  সে বাসায় টিভিতে বাংলা, ইংরেজি/ হিন্দিসহ বিভিন্ন রকমের ভাষা শুনে বুঝতে পারে না আসলে কোন ভাষায় কিভাবে কথা বলতে হয়।

খেয়াল করে দেখবেন যে, ডিভাইসে আসক্ত বাচ্চারা অনেক জেদি হয়ে থাকে। একটা বাচ্চা যখনই অনেক বেশি কার্টুন দেখে তখন তার ব্রেইন সেলগুলো এমনিতেই বেশি উত্তেজিত হয়/ থাকে।  সে যেহেতু স্পষ্ট করে কথা বলতে শেখেনি তাই সে কি চায় সেগুলো বোঝাতেও পারে না। একারণে সে আরো বেশি অস্থির ও জেদি হয়ে যায়। 

বাচ্চারা অনবরত কার্টুনের দ্রুতগতির পরিবর্তনশীল রং, শব্দ, ছবি ইত্যাদিতে অভ্যস্ত হয়ে যায় বলে তারা পরবর্তীতে বাস্তব জীবনে  মনোযোগ দেওয়ার সমস্যায় ভোগে । সাধারণ বই, স্বাভাবিক কথা বার্তা  ইত্যাদি  তাদের আকৃষ্ট করে না।

এবারে আসছি আমার নিজের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে । আমাদের দু কন্যার একজনের বয়স সাড়ে সাত বছর, আরেকজনের তিন বছর তিন মাস। সৌভাগ্যক্রমে তারা দুজনই খুবই কম বয়সে কথা বলা শিখেছে।  নিজের এবং অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে এবং অনেকগুলো নিবন্ধ পড়ে আমার মনে হয়েছে -বাচ্চাদের দেরিতে কথা বলা কিংবা ঠিকঠাক ডেভেলপমেন্টাল মাইলস্টোনগুলোতে না পৌঁছতে পারার সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসবে, যদি আমরা বাচ্চার সুষম বিকাশের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারি।

আমেরিকান একাডেমি অব  পেড্রিয়াটিক্স এর গবেষকরা বাবা-মায়েদের ১৮ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদেরকে ডিজিটাল মিডিয়া দিতে নিষেধ করছেন এবং ২ থেকে ৫ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য সারাদিনে মাত্র ১ ঘন্টা সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

বাচ্চাদের ডিভাইস থেকে দূরে রাখতে এবং তাদের দ্রুত/ যথাসময়ে কথা বলা শিখতে সাহায্য করতে আমরা যা যা করতে পারি, তা হলো-

শিশুর সাথে প্রচুর কথা বলুন

শিশুর সাথে কথা বলার শুরুটা কিন্তু শিশু গর্ভাবস্থায় থাকতে থাকতেই করা যেতে পারে।  শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও সত্যি এই যে গর্ভাবস্থায়ই  শিশুরা শুনতে শুরু করে এবং তখন থেকেই যদি তার সাথে কথা বলা যায়, বা তাকে বই পড়ে শোনানো যায় পরবর্তীতে তার কথা শেখাটা সহজ হয়ে যায়।

শিশুর জন্মের পর থেকে তার সাথে কথা বলতে থাকুন, আপনার যা মনে আসে অর্থহীন, অর্থবোধক সব ধরনের কথা, গান/ ছড়াগান, দোয়া/শ্লোক তাকে শোনান । একটু বড় হলে তাকে নানা রকম প্রশ্ন করুন (সে উত্তর দিতে না পারুক, তাও করুন), তার সাথে মজা করুন, তার মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করুন,  তাকে বই পড়ে শোনান।

শুদ্ধ উচ্চারণে প্রচুর কথা বলুন, পূর্ণ মনোযোগ দিন শিশুকে।

শিশুকে সময় দিন

শিশুকে সময় দেওয়া মানে তাকে সপ্তাহে একদিন রেস্টুরেন্ট কিংবা পার্কে নিয়ে যাওয়া নয়,  বরং প্রতিদিনই তাকে সত্যিকার অর্থে সময় দেওয়া। আপনি যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, বাবা এবং মা হিসাবে আপনার শিশুর অধিকার আছে আপনার সময় পাওয়ার।

আপনি তাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এই দায়িত্ব আপনার উপর বর্তায়। তাদের খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-আশাক, ঘুম- গোসল ইত্যাদির দেখভালের পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব আপনার ।  তার সমস্ত আবেগিক প্রয়োজনে সে যেন আপনাকে পাশে পায়,   আপনি যেন তার নির্ভরতার জায়গা হতে পারেন , সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

আপনি নানাভাবে শিশুকে সময় দিতে পারেন। ঘরের ভেতরেই শিশুর সাথে আপনি নানা রকম খেলা খেলতে পারেন,  দৌড়ঝাঁপ করতে পারেন, তাকে রঙিন ছবির বই দেখাতে পারেন,  তার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন , তাকে নিয়ে রান্না-বান্না করতে পারেন,  টুকিটাকি প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে তাদের পাশে বসে যে কাজগুলো করা  সম্ভব সে কাজগুলো করতে পারেন ।

সম্ভব হলে প্রতিদিন  ছাদে বা রাস্তায় তাকে বেড়াতে নিয়ে যেতে পারেন । সে যখন একা একা খেলবে, প্রিটেন্ড প্লে করবে, তখন তার বানানো কল্পিত খাবার দাবার খেয়ে প্রশংসা করতে পারেন। তাকে শিক্ষক বানিয়ে তার ছাত্র সাজতে পারেন।

শিশুর সাথে লুকোচুরি খেলতে পারেন, বল খেলতে পারেন- মোটকথা দিনের বেশ কিছুটা সময় শিশু যেন আপনাকে/ কাউকে না কাউকে পাশে পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মা-বাবা দুজনই আপনার শিশুকে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরুন । তাকে ভরসা দিন। এতে শিশুর ভালো ঘুম হয়, ভয় দূর হয় ও শিশু মানসিক ও সামাজিক ভাবে বেড়ে ওঠে। মা বাবার স্পর্শের মাধ্যমে শিশুর শরীরে বন্ডিং হরমোন ‘অক্সিটোসিন’ বেড়ে যায় যা শিশুকে পরিবারের সাথে ও পরবর্তীতে সমাজের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

বাচ্চাকে  ব্যস্ত রাখুন নানা উপায়ে

বাচ্চারা স্বাভাবিকভাবেই কৌতুহলী এবং অস্থির। দীর্ঘক্ষণ ধরে একই ব্যাপারে, পড়াশোনায়, খেলাধুলায়- কোন কিছুতেই ওরা আগ্রহ পায় না।

তখন ওরা বিরক্ত করে/ঘ্যানঘ্যান করে অথবা জিদ করে। তাই ওদেরকে ব্যস্ত রাখতে হবে নানা উপায়ে।

 বাচ্চাকাচ্চা, গৃহকর্ম সহায়তাকারী সবাইকে নিয়ে বারান্দা ও ছাদবাগান তৈরি কিংবা পাখি, মাছের যত্ন নেওয়া  কর্মসূচী নেয়া যেতে পারে। বাচ্চাদের সাথে নিয়ে পানি দেয়া, ফুল, পাতা, পাখি, পিঁপড়া গোণা ইত্যাদি করলে ওদের ভেতরে প্রাণ প্রকৃতি মানে, গাছপালা, পশুপাখির প্রতি ভালোবাসা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে। পাশাপাশি এসব চমৎকার অভ্যাসের মধ্য দিয়ে স্ক্রিন টাইম কম দেওয়া যায়/নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা যায়।

সমবয়সী বাচ্চাদের সাথে মিশতে দিন

বাচ্চাকাচ্চাদের কথা শেখা,  সুস্থ মানসিক বিকাশ ও সামাজিকীকরণের জন্য দরকার মানুষের সঙ্গ, বিশেষ করে ওদের সমবয়সী বাচ্চাকাচ্চাদের সঙ্গ। তাই ওদের বাচ্চাকাচ্চাদের সাথে মেশার/খেলার সুযোগ তৈরি করে দিন।

প্রতিবেশী সমবয়সী বাচ্চাদের নিয়ে বিভিন্ন ইনডোর গেমস ,যেমন, লুডো, ক্যারাম, টেবিল টেনিস, ফুলটোকা, ‘বি কুইক, তোমরা কি ভাই’, এক্কা দোক্কা, দড়িলাফ, পাঁচ গুটি, নাম দেশ ফুল ফল, কড়ি খেলা ইত্যাদি  খেলায় বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখুন।

বাসা বড় হলে মিনি বাস্কেটবল খেলার ব্যবস্থা, বাসার সামনে/ছাদে সম্ভব হলে ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যবস্থা করুন।

ছুটির দিনে মাসে/ছয় মাসে দু একবার চড়ুইভাতি, পুতুল বিয়ে ইত্যাদি আয়োজন করুন।

বাচ্চার দাদাবাড়ি/ নানাবাড়ি , আত্মীয়স্বজন/বন্ধুবান্ধব/সহকর্মীদের বাড়ি বেড়াতে নিয়ে যান এবং  বাসার বাচ্চাদের সাথে বন্ধুত্ব/ দৌড়াদৌড়ি/সত্যিকার খেলাধুলা ইত্যাদিতে উৎসাহিত করতে পারেন।

সত্যিকার  খেলনা দিয়ে খেলতে উৎসাহ দিতে পারেন– 

বাচ্চাকাচ্চাদের যদি এমন পরিবেশ দেওয়া যায়, যে তারা বই নিয়ে খেলবে, ছবি দেখবে, বানিয়ে বানিয়ে গল্প তৈরি করতে শিখবে- তাহলে, আশা করা যায়, তাদের কল্পনা শক্তি বাড়বে, ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট ভালো হবে, পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে এবং দ্রুত কথা বলতে শিখবে।

স্ক্রিনটাইম কম রাখার ক্ষেত্রে বই, রঙতুলি, খেলনাপাতি দিয়ে খেলা, দৌড়াদৌড়ি করতে দেওয়া সম্ভবত কাজ দেয়।

বাচ্চাকাচ্চা যতই কাঁদুক, জিদ করুক দিনরাত মিলিয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ের বেশি রাইমস, কার্টুন দেয়া যাবে না।

খেলার ছলে কথা শেখান

বাচ্চার সাথে ঘরের নানা জিনিস দেখিয়ে সেগুলোর নাম বলতে পারেন। যে জিনিসটা হাতে দেবেন/দেখাবেন, সেটার নাম স্পষ্ট করে বলে দেবেন।

 ‘আমি যা দেখি, তুমি কি তা দেখো? আমি দেখি – একটা গোলাপ, ফুল/ কম্পিউটার, গাড়ি, সাইকেল”  এরকম খেলার ছলে তাকে নানা জিনিসের নাম শেখাতে পারেন।

শিশুর অনুকরণের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর জোর দিন

শিশুরা খুবই অনুকরণপ্রিয়। বাচ্চারা সব সময় বড়দের অনুকরণ করতে চায়। তাকে যেভাবে কথা বলা শেখাতে চান, তা বারবার স্পষ্ট করে বলুন। তার সামনে বই/ পত্রিকা পড়ুন, ছবি আঁকুন, বিভিন্ন রঙ এর নাম বলুন, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখিয়ে তার নাম অনুকরণ করতে দিন।

শিশুর অনুকরণের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বেশি গুরুত্ব দিন। যেমন- শিশুর হাসি বা মুখভঙ্গির অনুকরণ করে দেখান। তারপর আপনার সঙ্গে শিশুকে অন্যান্য শারীরিক অঙ্গভঙ্গি যেমন- হাততালি দেওয়া, হামাগুড়ি দেওয়া, হাতের উল্টো পিঠে চুমু খাওয়া, আঙুলের সাহায্যে এক, দুই, তিন গোনা  ইত্যাদি করা।

৮-গল্প বলে/ ছড়াগান গেয়ে ঘুম পাড়ান

শিশুকে গল্প বলে/ বই পড়ে শুনিয়ে ঘুম পাড়াতে গেলে তার ভেতরে জানার আগ্রহ  বাড়বে।  তার শব্দভান্ডার উন্নত হবে। এতে দ্রুত কথা শেখাও সহজ হবে। গল্প শুনতে শুনতে বাচ্চাদের ভেতর কৌতূহল জাগে। এইটা কী, ওইটা কেন হলো নানা প্রশ্ন করা শুরু করে তখন।

স্পিচ থেরাপি

সাধারণত ১৮/ ২০ মাস বয়সের মধ্যে শিশু দুই শব্দের ছোট ছোট বাক্য বলতে শিখে যায়। যেমন- ‘বাবা,  মাম দাও’, ফিডু খাবো, বেড়ু যাবো’ ইত্যাদি ।  বাচ্চা যদি  এ  বয়সে একেবারেই কথা না বলে, সেটা বাবা মায়ের জন্য একটা দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

যেসব শিশু কথা বলা শিখছে না বা দেরিতে বলছে বা ভালো করে বলতে পারছে না, তাদের জন্য বাবা মায়ের আরও বেশি সচেষ্ট হতে হবে। স্পিচ থেরাপির ব্যাপারটি অনেকের কাছেই অজানা। স্পিচ থেরাপির সাহায্য  নিলে শিশু অনেক দ্রুত কথা বলা শিখতে পারে।

লেখক : কাজী তাহমিনা, সিনিয়র লেকচারার, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি।

এখানে মন্তব্য করুন :