শব্দ করে পড়ার যেসব সুফল

শব্দ করে পড়ার যেসব সুফল

পড়াকে তো শুধু পড়াই মনে হতো। শব্দ করে পড়া বা নি:শব্দে পড়াকে আলাদা বিশেষ কিছু মনে হয়নি। কিন্তু গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শব্দ করে পড়া বিষয়ক একটি সেমিনার আয়োজন মনোযোগ কাড়ে। জানতে পারলাম এমন দিবসও আছে। এবারের দিবসের স্লোগানটিও অন্যরকম ‘শব্দ করে পড়ি নিজেকে আবিষ্কার করি’।

আমি নিজেকে হঠাৎ আবিষ্কার করি ছেলেবেলায়। পড়ার টেবিলে বসিয়ে মা যেতেন রান্না ঘরে। তিনি নির্দিষ্ট কিছু পড়া দিয়ে যেতেন। শব্দ করে সেই পড়া পড়তে হতো। যাতে পাশের রান্নাঘর থেকে আমার পড়ার শব্দ পান। আমি পড়ছি কিনা, তা ঝোঝার জন্য তা ছিল মায়ের একধরনের প্রয়াস।
শব্দ করে পড়ার আরো কিছু উপকারী দিক জানা যাক

মনোযোগ নিবদ্ধ রাখে
শব্দ করে পড়লে, মনযোগ একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ধরে রাখা সহজ হয়। আশপাশের নানা বিষয়ের প্রলোভন হাতছানি দিয়ে মনোসংযোগ ছিন্ন করতে পারে না।
নিজের অজান্তেই মানসিক ও কথা বলার দক্ষতাটা বেড়ে যায়। আপনি যখন শব্দ করে পড়ছেন, এতে আপনার মন ও বলার মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে। যা বিষয়ের সঙ্গে আরো সংযুক্ত ও নিবদ্ধ রাখে। আর এই সংযুক্তি ও কোনো কিছুর প্রতি নিবদ্ধ থাকতে পারার দক্ষতার সুফল পাবেন চাকরির বা অন্য কোনো পরীক্ষার সময়। বড় কোনো অনুচ্ছেদ পড়তে তেমন বেগ পেতে হবে না। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে কোনো বিষয়ের খুঁটিনাটি দিকগুলো বুঝতেও সুবিধা হয়। কারণ, লিখিত শব্দটি আরো অর্থবহ হয় যখন তা উচ্চারিত হয়।

শব্দভান্ডার বাড়ায়

একটি স্ক্রিপ্টে অপরিচিত শব্দ আছে। বুঝতে পারছেন না, কিভাবে তা উচ্চারণ করবেন। বারেবারে জোরে ওই শব্দটি পড়–ন। একসময় দেখতে পাবেন, শব্দটি বেশ সাবলীলভাবে আপনার আয়ত্তে চলে এসেছে।
আপনি যখন মনে মনে পড়েন, শব্দটি নিজের ভেতরেই শোনা যায়। এর প্রভাব কিঞ্চিৎ পরিমাণ। কিন্তু জোরে পড়লে শব্দটির বোধগম্যতার একেবারে গভীরে পৌঁছানো যায়। তখন শব্দটি নিজেই প্রাণ পায় এবং বক্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়ে। এভাবে শব্দ করে পড়লে শুধু নতুন শব্দই শেখা হয় না বরং প্রতিটি শব্দের যে নিজস্ব সুর আছে তা আবিষ্কারের আনন্দ লাভ করতে পারেন।

বোধগম্য পড়ায় সাহায্য

মানুষ দেখে, শুনে ও স্পর্শ করাসহ নানা ভাবে শেখে। পারফর্ম করার আগে জোরে পড়ে নেওয়ার অর্থ হলো শব্দগুলোকে নিজের মতো করে নেওয়া। তাদেরকে নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করার প্রস্তুতি। ।
কোনো বিষয়ের একটি বৃহত্তর ছবি আঁকতে বোধগম্যতা গুরুত্বপূর্ণ। তখনই অন্যকে ভালো করে বোঝানো যায়, যদি কেউ আগে বিষযটি বোঝেন।

হতে পারে আনন্দের উৎস

আপনি যদি আপনার শব্দ করে পড়ার ক্ষমতাটা অনেকদিন কাজে না লাগান, তাহলে আজই শুরু করে দিতে পারেন। ছোটোদের কোনো বই দিয়েই শুরু করুন না। শিশুদের বই পড়ে শোনান। দেখবেন, তাদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। সেই আনন্দ শতরুপে বিচ্ছুরিত হবে আপনার মধ্যেও। আর কাউকে বই পড়ে আনন্দ দেওয়াটাও কিন্তু কম আনন্দের না।

শরীরের ব্যয়াম

মানুষ যখন কথা বলে তখন শুধু গলা দিয়ে শব্দই বের করে না। এর সঙ্গে হাত, শরীর ও মাথাও নির্দিষ্ট তাল লয়ে নাড়াতে থাকে। আমরা যা বলি, তা আরো সুস্পষ্ট করে প্রকাশে সহায়তা করে দৈহিক ও মুখের অভিব্যক্তি। এছাড়া শব্দ করে পড়লে আমাদের মুখম-লে যে পেশী রয়েছে, তাদেরও একধরনের ব্যয়াম হয়ে যায়।

স্বরভঙ্গীর সমস্যা বুঝতে সাহায্য

শব্দ করে পড়ার সময় রেকর্ডার অন করে নিন। তারপর টেনে দেখুন শব্দটির উচ্চারণ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা। কণ্ঠস্বরের উত্থান, পতন, কোথায় জোর দিতে হবে, কোথায় শ্বাস-প্রশাস ছাড়তে হবে বা রাখতে হবে- এ বিষয়গুলো সহজেই অনুধাবণ করা যাবে।

পড়া ও শোনার দক্ষতা বৃদ্ধি

শব্দ করে পড়লে আমরা আরো বেশি সচেতন হই, আমরা কি পড়ছি তার উপর। ব্যাকরণ, বাক্য কাঠামো ইত্যাদির দিকেও নজর দিতে পারি।

এখানে মন্তব্য করুন :