রাহুল গান্ধীর যত মজার কান্ড

রাহুল গান্ধীর যত মজার কান্ড

ভোটের প্রচারপ্রচারণায় নেমে অদ্ভূত কিছু কান্ড করে বসেন কোনো কোনো  প্রার্থী।  ভোটার কিংবা জনগণের মন জয় করতে যে তাদের এসব কর্মকান্ড তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কখনো কখনো রাজনীতিকদের এমন প্রচেষ্টা সফল হয়, ভোটাররা তাদের আচরণ ও কর্মকান্ডে খুশি হয়ে দিয়ে দেন ভোট। 

তবে এদের সবার চেয়ে যেন আলাদা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার কিছু কর্মকান্ডের ছবি এখন ভাইরাল।

এই যেমন গত ২৪  ফেব্রুয়ারি কেরালায় জেলেদের সঙ্গে সাগরে নেমে মাছ ধরতে দেখা গেছে তাকে। সেদিন রাহুল গান্ধী জেলেদের কাছ থেকে তাদের জীবিকা, রুটি-রোজগার ও সমস্যার কথা শুনেছিলেন। হঠাৎ কী জানি হলো তার। কেরালার সাগরের পানিতে দিলেন ঝাঁপ। তারপর জেলেদের সঙ্গে হাত লাগিয়ে জাল টেনে মাছও ধরেন।

বলা নাই কওয়া নাই হঠাৎ পানিতে ঝাঁপ দেন রাহুল গান্ধী। ছবি: এনডিটিভি

পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর তার ভেজা জামাকাপড় লেপ্টে থাকে শরীরের সঙ্গে। এতে স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল তার সুগঠিত পেশী। বোঝাই যাচ্ছিল নিয়মিত জিমের দরজায় তার পা পড়ে। ভারতের প্রায় সবকটি গণমাধ্যমে তার পানিতে ডুব দেওয়ার ছবি প্রকাশ করে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ভেসে যায় সেই ছবিতে। সেসব ছবির নিচে ভক্তরা মন্তব্য করেন, লকডাউনে তাহলে বেশ ভালো সময়ই তিনি কাটিয়েছিলেন জিমে। ভারতের সাবেক বক্সার ভিজেন্দার সিং তো তার বাহুর পেশী প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বলে বসেন, এতো দেখি রীতিমতো বক্সারের পেশী।

তার পেশীর প্রশংসা হচ্ছে চারদিকে । ছবি এনডিটিভি

এরপর তামিলনাড়–তে গিয়ে আরেক কান্ড করে বসেন সোনিয়া গান্ধীর পুত্র। পহেলা মার্চ গিয়েছিলেন তামিলনাড়–র মুলাগুমোদুবন এলাকার সেন্ট জোসেফ স্কুলে। কয়েকদিন পরেই তামিলনাড়–তে বিধানসভা নির্বাচন। তিনি সেন্ট জোসেফে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আড্ডা জমিয়ে বসেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে কথা বলেন । তাদেরকে শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য দেন। জানান পড়াশোনার পাশাপাশি শরীরটাও ফিট রাখতে হবে। এছাড়াও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন।

এরই একপর্যায়ে হঠাৎ করলেন কী, তিনি  দশম শ্রেণীর এক ছাত্রর দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মারেন। একটানা ১৫ বার বুকডন দিতে হবে !

পরিস্থিতিটা একবার কল্পনা করুন ৫০ বছর বয়সী রাহুল বুকডন দিতে বললেন ষোল সতের বছরের এক কিশোরকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিওটিও ভাইরাল হয়েছে ।

 ভিডিওতে দেখা গেছে সাবলীলভাবে তিনি বুক ডন দিয়ে যাচ্ছেন। তার গতি ও মুখের ভঙ্গি বলে দিচ্ছিল একটু হাঁপিয়ে উঠেননি। নিয়মিত যে তিনি বুকডন দেন তা স্পষ্ট। ওই কিশোরের আগেই তার ১৫ বার বুকডন দেওয়া শেষ।

ধন্দে পড়তে হলো, কে বলবে যে তার বয়স ৫০ বছর। দেখে মনে হয় রীতিমতো  যুবক। এরপর এক ছাত্রকে আত্মরক্ষায় জাপানি মার্শাল আর্ট আইকিডোর একটি কৌশল দেখিয়ে দিয়েছেন। 

বুকডন শেষ রাহুল গান্ধীর। তখনো দিয়ে যাচ্ছিলেন সেই ছাত্র। ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ওই  স্কুলের অনুষ্ঠানে এক ছাত্রী রাহুল গান্ধীকে অনুরোধ করেন তার গানের সঙ্গে নেচে দেখানোর জন্য। মঞ্চে নাচ শুরু করে দিলেন রাহুল। একই সঙ্গে তামিলনাড়–র কংগ্রেসের নেতাদেরও আহবান করলেন নাচে অংশ নেওয়ার জন্য।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আরেক কান্ড করে বসেন ভারতের কংগ্রেসের সভাপতি । কেরালায় চলছিল কৃষকদের আন্দোলন। তিনি সেই আন্দোলনে সামিল হন ভিন্নভাবে। কৃষকরা ট্রাক্টর চালিয়ে যাচ্ছিলেন আন্দোলনে। রাহুলগান্ধী এমনই এক ট্রাক্টর চালিয়ে অংশ নেন তাদের সাথে।

তবে রাহুল গান্ধীর এমন সব কর্মকান্ডের অভিপ্রায় যে আসলে কী তা তিনিই ভালো বলতে পারেন। সাধারণ মানুষ যে তার এমন কাজে বেশ মজা পায় তা বোঝা যায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেসব ছবি বা ভিডিও ভাইরাল হওয়া দেখে।

তথ্যসূত্র : ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি। 

এখানে মন্তব্য করুন :