রাজামশাই আর খেলার মাঠের গল্প

রাজামশাই আর খেলার মাঠের গল্প

এক ছিল এক দেশ। সেই দেশে ছিল দুটি কন্যা।

ছোট কন্যার নাম ছিল ইরাবতী,
আর বড় কন্যার নাম ইনিয়ানা।

ওরা একটা শহরে থাকত আর সারাদিন ঘরের ভেতর দৌড়াদৌড়ি, খেলাধুলা আর দুষ্টুমি করত। ছোট্ট ঘরের ভেতর লাফঝাঁপ আর দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে শক্ত মেঝেতে পড়ে কোনদিন পড়ে গিয়ে ওদের মাথা কাটত, কোনদিন হাত পা মচকাত; আরো নানারকম যন্ত্রণা হত। একবার তো পড়ে গিয়ে ইরাবতীর হাতই ভেঙে গেল। 

তখন ওদের মনে খুব দুঃখ হল। দুঃখ ভুলতে ওরা দুই বোন গেল দেশের রাজামশাইয়ের কাছে। 

গিয়ে ইনিয়ানা বলল, ‘রাজামশাই,রাজামশাই,
আমরা বড় দুঃখী,
এই শহরে নেই যে মোদের,
সঙ্গী পশুপক্ষী।

ঘাসও নাই, বন নাই,
নাই যে কোন মাঠ,
আছে শুধু দালানকোঠা,
আর যে বাজারঘাট।’

ইরাবতী বলল,
`পার্কও নাই, নদীও নাই,
শান্তি যে নাই মনে,
আমরা শুধু লুকিয়ে থাকি,
ঘরের কোনে কোনে।

দাওনা, ওগো, দয়াল রাজা,
খেলার মাঠ আর ঘুড়ি ,
আমরা সবাই খুব মজাতে,
পাখির মত উড়ি।’

রাজামশাই ওদের কথা শুনে বললেন, ‘কে রে, তোরা, পুঁচকে দুটো,
মিষ্টি হাসি, লক্ষ্মী মত?
কী চাস তোরা,
খেলার মাঠ?
পেয়ে যাবি,
তৎক্ষণাৎ!

এই,কে আছিস?
আয় ছুটে,আয়,
শান্ত্রিসেপাই,
তাড়াতাড়ি আয়…’

হাঁকডাক শুনে পড়িমরি করে তখুনি ছুটে এলো সবাই।

মন্ত্রী বলল, ‘আজ্ঞে, রাজামশাই,
টাকা তো নাই,
টাঁকশালেতে,
সব ফাঁকা যে!’

কোটাল বলল, ‘ঘাড় কেটে নে, নে গরদান,
পুঁচকে দুটোর সাহস কত!
ধুলোবালির খেলার মাঠ,
ঘোড়ারডিম চাইছে যত!’

এসব শুনে ইনিয়ানা আর ইরাবতী তো খুব ভয় পেয়ে গেল। বলল,
‘চাই না, মোরা, রাজামশাই,
চাইনা কিছু আর,
বাড়ি বসেই খেলবো মোরা,
তাও, দিওনা মার।’

মন্ত্রী বলল, ‘বটে!’
কোটাল বলল, ‘হুম, বুদ্ধি আছে কিছু ঘটে।’

কিন্তু রাজামশাই ছিলেন খুব দয়ালু।
তিনি বললেন, ‘লক্ষ্মী দুটো ছা,
ফিরবে খালি হাতে?
কেমন দেখায় তা?

এই যে, মন্ত্রী, শোনো,
ঘরের থেকে আনো,
বেশি নিয়েছ আগে,
ছিল যা ওদের ভাগে।
নইলে দেব শূলে,
দেব দুকান মুলে।’

রাজামশাইয়ের কথা মন্ত্রী, শান্ত্রী, সেপাই -সবাই তো ভয়ে কেঁপে শেষ!

পড়িমরি করে দৌড়ে যে যার ঘর থেকে সোনাদানা, হীরা, মাণিক্য, যা সব টাঁকশাল থেকে ওরা চুরি করেছিল, সব নিয়ে আসল।

তারপর কোনদিন যে শহরটায় বাচ্চাদের জন্য খেলার তেমন কোন জায়গা ছিলনা, সে শহরটায় রাজামশাই বানিয়ে দিলেন অনেক অনেক
পার্ক
খেলার মাঠ
মিউজিয়াম
বাচ্চাকাচ্চাদের জন্য মজার সব রাইড
আর পিকনিক, চড়ুইভাতি করার জন্য অনেক অনেক গাছপালা ঘেরা ছোট ছোট বন।

তারপর ইনিয়ানা, ইরাবতী আর শহরের বাকী সব বাচ্চারা রাতদিন আনন্দে খেলতে লাগল, আর গাইতে লাগল,

‘মোদের রাজা কত ভালো,
তোমরা জানো কী তা?
রাজামশাই খুব ভালো যে,
তিনি মোদের মিতা।’

এরপর থেকে শহরের বাচ্চাকাচ্চাদের হাতপাও ভাঙত কম, আর মনও থাকত খুব ভালো।

লেখক : কাজী তাহমিনা, সিনিয়র লেকচারার, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি।

এখানে মন্তব্য করুন :