যে দোকানে আসতেন রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ, মকবুল ফিদা হুসেনরা

যে দোকানে আসতেন রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ, মকবুল ফিদা হুসেনরা

ভারতের কলকাতার এক নম্বর লেনিন স্মরণীর জি সি লাহা প্রাইভেট লিমিটেড সাধারণ কোনো প্রতিষ্ঠান নয়; এটি কালের সাক্ষীও বটে। ছবি আঁকার সাজসরঞ্জাম, রং, তুলি, ক্যানভাস ইত্যাদি বিক্রি হয় দোকানে, অর্থাৎ চিত্রশিল্পিদের আঁকাআঁকির জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র মেলে এখানে।


আর এসব জিনিস কেনার উদ্দেশ্যে এখানে শিল্পিদের ভিড় লেগেই থাকে। ইতিহাসের নানা পর্যায়ে চিত্রসরঞ্জাম কেনার জন্য এই দোকানে পদধুলি রেখে গেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায় , মকবুল ফিদা হুসেনের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পিরা।

ভাবুন একবার, আত্মমগ্ন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জি সি লাহায় ঢুকে এই আলমারি ওই আলমারি ঘুরে ঘুরে দেখছেন। পরখ করে দেখছেন রং, তুলি, ইজেল। শেষে পছন্দের জিনিসপত্র বাছাই করে, সেগুলোর দাম চুকিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

শত বছর পেরিয়েছিল আগেই, এ বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির বয়স হয়েছে ১১৬ বছর। এর জন্মের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ।

গিরীন্দ্র কুমার লাহার বাবার ছিল রংয়ের ব্যবসা। সেটা ১৮৯০/৯১ সালের কথা। গিরীন্দ্র কুমররা দুই ভাই বাবার সঙ্গে ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। এরই মধ্যে গিরীন্দ্রকুমারের মাথায় নতুন চিন্তা আসলো, বাবার ব্যবসা ভালো লাগছিল না, নতুন কিছু একটা করতে চান। মনস্থির করলেন চিত্রশিল্পিদের নিয়ে আলাদা করে ব্যবসা কববেন। তার বাবার সায় ছিল না এতে, কিন্তু দমবার পাত্র নন গিরীন্দ্র কুমার লাহা।

বড় বোনের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার করে শুরু করেন ব্যবসা, ১৯০৫ সালের জানুয়ারি মাস তখন। ১৬ বছরের এক দু:সাহসী কিশোরের সেদিনের সেই অভিযাত্রার ফল আজকের জি সি লাহা প্রাইভেট লিমিটেড।
তৎকালীন কলকতায় যারা চারুশিল্পি ছিলেন, যারা আঁকাআঁকি পছন্দ করতেন, অল্পদিনের মধ্যেই তাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠে দোকানটি।


বর্তমানে দোকানটি পরিচালনা করছেন জি সি লাহা পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম সিদ্ধার্থ লাহা। ডয়েচেভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জি সি লাহা লিমিটেডের নানা অজানা কথা। ভবিষ্যত প্রজন্ম এ ব্যবসা চালু রাখবে কিনা, বর্তমানে ডিজিটাল ছবি আঁকার যুগে হাতে আঁকা ছবির কদর কতদিন থাকবে ইত্যাদি নিয়ে তিন তার মতামত জানান। তবে তার অভিমত হলো, যতই ডিজিটাল হোক না কেন, হাতে আঁকা ছবির আলাদা একটি কদর সবসময়ই থেকে যাবে।

এখানে মন্তব্য করুন :