রাজনীতির মাঠ কাঁপানো ক্রিকেটাররা

রাজনীতির মাঠ কাঁপানো ক্রিকেটাররা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন ইমরান খান । ছবি : ম‌্যাচেক্সডটকম।

কয়েকজন ক্রিকেটার পরবর্তীতে রাজনীতির ময়দানও কাঁপান। মাঠে ব্যাট-বলে তারা ছিলেন পারদর্শী। সেই ছাপ রাজনীতিতেও রাখতে পারবেন কিনা শুরুতে এমনটা ভাবা হতো। অনেকেই সংশয় ভুল প্রমাণ করেছেন, কেউ কেউ ব্যর্থ হন। আবার কয়েকজনের পারফরম্যানস তো রীতিমতো জন্মগত রাজীনিতকের মতোন।
উপমহাদেশের এমন কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিয়ে এই আয়োজন।

ইমরান খান

নানা নাটকীয়তা ও উত্তেজনায় ভরপুর ছিল ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। অনেক বাধা ও চড়াই পেরিয়ে সেবার পাকিস্তান বিশ্বকাপ জয় করে। সেই চ্যাম্পিয়ন টিমের নেতৃত্বে ছিলেন অধিনায়ক ইমরান খান। তিনি এখনো ক্যাপ্টেন, তবে জাতীয় ক্রিকেট দলের নয়, দেশের ২১ কোটি মানুষের।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ২০১৮ সাল থেকে দেশ পরিচালনা করছেন। ইমরান খানকে মনে করা হয় সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ফাস্ট বোলিং করতেন। বলের গতি যেমন ছিল, তেমনি ছিল সুইং। ব্যাটিংও করতেন দুর্দান্ত।

পৃথিবীর আট জন ক্রিকেটারের একজন, যিনি টেস্ট ক্রিকেটে একাধারে তিনশ’ উইকেট ও তিন হাজার রান করেছেন। টেস্টে তার ৩ হাজার ৮০৭ রান। উইকেট নিয়েছেন ৩৬২। ওয়ানডেতে ৩ হাজার ৭০৯ রান ও ১৮২ উইকেট।

সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউল হক ও মুসলিম লীগ দুই দলই তাকে চেয়েছিল, নিজেদেও দলে। কিন্তু কোনো দলে যোগ না দিয়ে ১৯৯৬ সালে ইমরান খান পাকিস্তান তেহরিন-ই-ইনসাফ দল গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে নামেন।

দুইবার নির্বাচনে করলওে একবারও জয় পাননি টাইগার পতৌদি । ছবি : স্পোর্টসখিদাডটকম

মনসুর আলী খান পতৌদি
ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা অধিনায়ক। টাইগার পতৌদি নামেই বেশি পরিচিত। ছিলেন হরিয়ানার পতৌদি রাজ্যের নবাব।

১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী সরকার সংবিধানে সংশোধন এনে নবাব প্রথা বিলুপ্ত করে। এর প্রতিবাদেই কিনা তিনি রাজনীতিতে নামার আগ্রহ প্রকাশ করেন! জীবনে প্রথম নির্বাচনে নামেন, অংশ নেন গুরগাও থেকে ।

১৯৯১ সালে ফের তিনি নির্বাচনে দাঁড়ান, এবার কংগ্রেস থেকে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ও ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব সে নির্বাচনে জনসংযোগ করেছিলেন। দুই দুইবার লোকসভা থেকে নির্বাচন করলেও একবারও জয়ের স্বাদ নেওয়া হয়নি টাইগার পতৌদির।

কীর্তি আজাদ


১৯৮৩ সালে ভারত যে বার প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে, সেই চ্যাম্পিয়ন টিমের সদস্য ছিলেন কীর্তি আজাদ। সাবেক এই টেস্ট খেলোয়াড়ের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়াটা মোটেও অস্বাভাবিক ছিল না। কারণ, তার বাবা ভগাওয়াত ঝা আাজাদ ছিলেন ঝানু রাজনীতিবিদ। দায়িত্ব পালন করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কীর্তি আজাদ সেভাবে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি । তবে রাজনীতির মাঠের চৌকষ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। তিনবার লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়ান, তিনবারই বিজয় লাভ করেন।

কংগ্রেসের টিকিটে ২০০৯ সালে মোরাদাবাদ থেকে দাঁড়ান আজহারউদ্দিন। ছবি : স্পোর্টসখিদাডটকম

মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন

ভারতের অন্যতম সেরা স্টাইলিস ব্যাটসম্যান, সেরা ফিল্ডার ও অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে তার অবস্থান ছিল উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো।
নক্ষত্রের যেমন পতন হয়, আজহারউদ্দিনের ঠিক সেভাবে পতন হয় আকাশ থেকে মাটিতে, সশব্দে। জননন্দিত আজহারউদ্দিন ম্যাচ গড়াপেটা করে রাতারাতি পরিণত হন ঘৃণা ও ধিক্কারের বস্তুতে। শাস্তিস্বরুপ ২০০০ সালে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি মিডল অর্ডারে ব্যাট করতেন। লেগ স্ট্যাম্পের বলগুলো ব্যাট সামান্য ঘুরিয়ে যেন ছুঁয়ে দিতেন, তারপর সেই বল গড়াত মাঠের বাইরে, খুবই দৃষ্টিনন্দন ছিল শটগুলো।

সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ভেংকটরাঘাবন বলতেন, পৃথিবীর সবচেয় সেরা কব্জি দুটি আজহার উদ্দিনের।
ভুলের জন্য জীবনে অনকে কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে তাকে। একসময় নামেন রাজনীতিতে। কংগ্রেসের টিকিটে ২০০৯ সালে মোরাদাবাদ থেকে দাঁড়ান আজহারউদ্দিন। বিজয়ীও হয়েছেন। হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।


সনাথ জয়সুরিয়া

শ্রীলঙ্কান এ ওপেনার তার সময়ে ছিল সবচেয়ে বিধ্বংসী। যেদিন মেজাজে থাকতেন, প্রতিপক্ষের বোলিং লাইন আপ তছনছ করে দিতেন।

কোথায় বল ফেলবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতেন বোলাররা। ধুমধাম বল পিটিয়ে চারছক্কার ফুলঝুরি ছড়াতেন। নিজের এলাকা মাটারা থেকে নির্বাচনে লড়ে হয়েছিলেন ডাক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী। আরেকবার স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


অর্জুনা রানাতুঙ্গা

শ্রীলংকার ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা অধিনায়ক। বিশাল দেহ নিয়ে সাবলীলভাবে দৌড়ে রান করতে পারতেন। নবীন দল শ্রীলঙ্কাকে উজ্জীবিত করে ১৯৯৬ সালে জিতে নেন বিশ্বকাপ। অবসরের পর তিনি গাম্পাহা আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। ২০১৫ সালে তিনি শিপিং ও বন্দরও বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি উত্তর প্রদেশের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন চেতন
চৌহান। ছবি : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

চেতন চৌহান

ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনিং ব্যাটসম্যান ছিলেন চেতন চৌহান। সত্তরের দশকের শেষ দিকে তিনি বিখ্যাত ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কারের সঙ্গে নামতেন ওপেনিংয়ে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, পরে রিপোর্ট নেগেটিভও আসে।

কিন্তু করোনার ছোবলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বিষ ছড়িয়ে পড়ে। সেই বিষের প্রভাবে, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে গত ১৬ আগস্ট ৭৩ বছর বয়সে মারা যান তিনি ।

খেলোয়াড়ি জীবনে মহারাষ্ট্র ও দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজির চেয়ারম্যান হিসেবে। বিজিপির হয়ে দুইবার লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি উত্তর প্রদেশের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন।

বিনোদ কাম্বলি

ভারতের টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড় যার, তারই কিনা ক্যারিয়ার শেষ মাত্র ২৪ বছর বয়সে। সবাই তাকে অভিহিত করেছিল জন্মগত বিরল প্রতিভার অধিকারী হিসেবে। টেস্টে ব্যাটিং গড়টাই দেখুন ৫৪; কিন্তু সেই প্রতিভার যত্ন তিনি যথাযথ ভাবে নেননি।
টেস্টে সবচেয়ে দ্রুত এক হাজার রানের চূড়ায় উঠেন তিনি। চারটি সেঞ্চুরি, এর মধ্যে দুটিই ডাবল সেঞ্চুরি।
ওয়ানডেতেও একই অবস্থা কাম্বলির, মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ক্যারিয়ার শেষ।
বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণের বারবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হতেন বিনোদ কাম্বলি। যদিও গণমাধ্যমের শিরোনাম হওয়ার শুরুটা ছিল তার কিংবদন্তি হিসেবে। স্কুল ক্রিকেটে শচীন টেন্ডলকারের সঙ্গে ৬৬৪ রানের অবিশ্বাস্য জুটি গড়ে চমকে দিয়েছিলেন ক্রিকেট বিশ্বকে। ব্যক্তিজীবনে বহুমুখি ও বৈচিত্র্যময়ী বিনোদ কাম্বলি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন, ধারাভাষ্য দিয়েছেন, ক্রিকেট কোচিংও করিয়েছেন।

ক্যারিয়ার যার এত বিচিত্র, তিনি কী রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে থাকতে পারেন? একসময় বিনোদ কাম্বলি নাম লেখান রাজনীতিতেও, যোগ দেন ভক্তি শক্তি দলে। হয়েছিলেন দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ২০০৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি অংশ নিলেও পরাজিত হন।


তারপরে নামে সামাজিক আন্দোলনে। ২০১১ সালে আন্না হাজারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রমে ছিলেন সক্রিয় কর্মী।
বর্তমানে বিনোদ কাম্বলি মুম্বাই ক্রিকেট এসোসিয়েশনের কোচ।

কাইফ অদৃশ্য কারণে ছিটকে পড়তেন দলের বাইরে । ছবি : ইন্ডিয়া টাইমস

মোহাম্মদ কাইফ

দুই হাজার সালে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নেতৃত্ব দিয়ে দলকে বিজয়ী করেন। ২০০২ সালে নেটওয়েস্ট ট্রফিতে তার অনবদ্য পারফরমেন্স এখনো অনেকের চোখে ভাসে।
ভারতের অন্যতম সেরা ফিল্ডার হিসেবেও কাইফের নাম স্মরণ করা যেতে পারে। পয়েন্টে যুবরাজ সিং, কাভারে মোহাম্মদ কাইফ; এই দুইজনের সম্মিলিত দুর্গ রীতিমতো কপালে ঘাম ছুটাতো প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের। এতো চমৎকার পারফর্ম করা সত্ত্বেও কাইফের ভাগ্যের আকাশের কোথাও না কোথাও জমে উঠত দুর্ভাগ্যের মেঘ।

তাই ক্যারিয়ারটা দুর্দান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, অদৃশ্য শক্তিবলে ছিটকে পড়তেন মাঠের বাইরে। আর দলে ঢুকে পড়ত ইনজুরি সেরে আসা তারকা খেলোয়াড়রা। এভাবে দলে আসা যাওয়ার মধ্যেই ছিল তার পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ার।
২০১৪ সালে মোহাম্মদ কাইফ কংগ্রেসের হয়ে উত্তর প্রদেশের ফুলপুর থেকে নির্বাচনে অংশ নেন । কিন্তু, বিজেপির প্রার্থীর কাছে ধরাশয়ী হন।

হাসান তিলকরত্নে

শ্রীলংকার ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। বাঁ হাতি এ ব্যাটসম্যান ওয়ানডের চেয়েও টেস্টে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করতেন । ২০০১ সালে গ্যালে টেস্টে খেলেন সেরা ম্যাচটি। অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দলের একপ্রান্ত আগলে রেখে সামলান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং তোপ। তার অপরাজিত ২০৪ রান শ্রীলঙ্কাকে বিশাল স্কোর গড়তে সাহায্য করে। ওই ম্যাচে ১০ উইকেটে জয়ী হয় শ্রীলঙ্কা। অবসরের পর তিনি শ্রীলঙ্কার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টিতে যোগ দেন। এখনো তিনি ওই দলের রাজনীতিতে সক্রিয়।

আমির সোহেল

: ওয়ানডেতে পাকিস্তানের ওপেনার ও সাবেক টেস্ট অধিনায়ক। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন টিমের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপও খেলেছেন। রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার ইচ্ছায় ২০১১ সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগে নাম লেখান। পরে অবশ্য ২০১৪ সালে দল থেকে ইস্তফা দেন।


সরফরাজ নওয়াজ

রিভার্স সুইংয়ের জনক খ্যাত সরফরাজ ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানের রাজনীতির মাঠে নামেন। সদস্য নির্বাচিত হন পাঞ্জাব গণপরিষদের । পরে জড়ান পাকিস্তান পিপলস পার্টিতে। ২০১১ সালে সেটা ছেড়ে যোগ দেন মুত্তাহিদা কওমী মুভমেন্টে।


মনোজ প্রভাকর

ছিলেন মিডিয়াম পেসার । সময়ে সময়ে লোয়ার অর্ডারে দারুণ ব্যাট করতেন। ১৯৯৬ সালে অবসরের পর তিনি অল ইন্ডিয়া ইন্দিরা কংগ্রেসে ( তিওয়ারি) যোগ দেন। দক্ষিণ দিল্লির একটি আসন থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি।


নবজ্যোত সিং সিধু

ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মতো ব্যক্তি জীবনে নানা নাটকীয়তায় ভরা ছিল সিধুর জীবন। মাঠে আক্রমণাত্মক আচরণ করতেন। অবসরের পরও খেলোয়াড় বা ক্রীড়াঙ্গনের বাইরের মানুষদে নিয়ে তীব্র হুল ফোটানো কথা নিয়ে আলোচনায় আসতেন ।

টপ অর্ডার এ ব্যাটসম্যানের টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরিসহ অনবদ্য কয়েকটি ইনিংস রয়েছে। ২০০৪ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ওই বছর নির্বাচনে অংশ নিয়ে জেতেন। ২০১৭ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন। দলীয় নেতাদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ২০১৯ সালে পদত্যাগ করেন।
গৌতম গম্ভীর : ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে দলের ওপেনিং ব্যাটসম্যান। ছয়টি ওয়ানডেতে অধিনায়কের দায়িত্ব পালনও করেন।

ছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলের অধিনায়ক। প্রথম ভারতীয় যিনি পরপর পাঁচটি টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি কবরেছেন। এককথায় বলতে গেলে ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান।
২০০৭ সালে টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ৫৪ বলে ৭৫ রান করে দলের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ১২২ বলে করেন ৯৭ রান।
২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন মারকুটে এ ব্যাটসম্যান। পূর্ব দিল্লি লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হোন।

নাইমুর রহমান দুর্জয়


বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক। ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে অফস্পিন করে ১৩২ রানে ৬ উইকেট নেন। ওই টেস্টে শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলি শিকার হয়েছিল দুর্জয়ের। ২০১৪ সাল থেকে তিনি মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশর সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি : উইকিপিডিয়া

মাশরাফি বিন মুর্তজা


বাংলাদেশর সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তার লড়াকু মানসিকতার কারণে। ইনজুরি তাকে বারবার কামড় দিলেও, প্রত্যেকবার সাহসের সাথে মোকাবিলা করেছেন। ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নড়াইল থেকে সংসদস সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
সূত্র: ক্রিকবাজ, ইএসপিএন, উইজডেন, উইকিপিডিয়া ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।
লেখক : পলাশ সরকার

এখানে মন্তব্য করুন :