বিরাট কোহলি : অন্য ধাতুয় গড়া

বিরাট কোহলি : অন্য ধাতুয় গড়া

দক্ষিণ আফ্রিকান গ্রেট এ বি ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, বিরাট কোহলির ব্যক্তিত্ব এবং মানসিক সামর্থ্যই তাকে ওয়ানডেতে সেরা ব্যাটসম্যানের সিংহাসনে পৌঁছে দিয়েছে। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরে পাশাপশি খেলছেন তারা অনেক দিন ধরে। তাই একে অপরের করোটির ভেতরের চিন্তা ভালোই পড়তে পারেন। বিরাটকে নিয়ে তার ভবিষৎবাণী এমন,‘ গত কয়েকবছরে বিরাট অবিশ্বাস্য পারফরম্যানস দেখিয়ে যচ্ছেন। সহসাই এটি থামবে বলে মনে করি না।’

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সফল অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহের কণ্ঠেও প্রায় একই সুর। ভারতকে নিয়ে বানানো একটি ডকুমেন্টরিতে বিরাটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। বলেন, ভারতীয় ক্রিকেটের যে মানসিকতা তারই প্রতীক কোহলি। যিনি কোনো কিছুকে ভয় পান না। তারা মনে করেন এমন কিছু নেই যা তারা জয় করতে পারবেন না।

আসলে গত কয়েক বছর ধরে ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের একটি বড় রুপান্তর ঘটে যাচ্ছে। আগে যেমন মনে করা হতো, বলের সংখ্যা অফুরন্ত। বেছে বেছে বল খেলতে হবে, সেই বেছে খেলা বলে চারছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা দেখা যেত ক্রিকেটারদের মধ্যে। কিন্তু এখন ক্রিকেটে বল নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি বলেই রান করার চেষ্টা করছেন ক্রিকেটাররা।

তাদের আপ্রাণ চেষ্টা থাকে সিঙ্গেল নেওয়ার জন্য। যারা ভালো দৌড়াতে পারেন, যাদের স্ট্যামিনা ভালো, তারা দ্রুত দৌড়ে সেই এক রানকে বানিয়ে ফেলেন দুই রান, কখনো কখনো তিন রান বানাতেও দেখা যায়। জোরে দৌড়ানোর ক্ষমতা ও ফুসফুসের জোর না থাকলে এমনটা সম্ভব হয় না। আর এমন রানে প্রতিপক্ষের উপর পড়ে ভয়ানক মানসিক চাপ।

তাই এখন খেলোয়াড়দের মনের জোর ও শারীরিক সামর্থ্য বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কারণ ক্রিজে যতক্ষণ থাকেন রানের মেশিন সচল রাখতে হয়। বল বাজেভাবে খরচের কোনো সুযোগ নেই।
আর ছোটো ফরম্যাটের খেলায়তো প্রত্যেক মুহূর্তে রান রেট বাড়ানোর তাড়া থাকে।

এজন্য ক্রিকেটারকে হতে হয় পাওয়ার হিটার। হতে হয়, জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে চারছক্কা মারনেওয়ালা। আর এই নতুন যুগের ক্রিকেটের যদি কোনো ভালো উদাহরণ চোখের সামনে হাজির করতে বলা হয়, তাহলে সবার আগে চলে আসবে বিরাট কোহলির নাম। অসাধারণ ফিটনেস তার, রয়েছে মানসিক চাপ নেওয়ার বিরল ক্ষমতা।

তাইতো দ্য ওয়ালখ্যাত রাহুল দ্রাবিড় বলেছিলেন, অনেকেই ভালো ক্রিকেট খেলেন, অনেকে প্রশিক্ষণেও বড় সময় কাটান; কিন্তু ক্রিকেটারদের মধ্যে আসল পার্থক্য হয়ে যায় মানসিক চাপ নেওয়ার সক্ষমতার উপর। আর এদিক দিয়ে বিরাটই সেরা।

গত ২ মার্চ ছিল বিরাট কোহলির নেতৃত্বে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জেতার ১৩ বছর পূর্তি। ওই টুর্নামেন্টে তার ছিল ৪৭ ব্যাটিং গড়। পুরস্কার হিসেবে ওই বছরই ডাক পান জাতীয় দলে। এমন সুযোগ বহু ক্রিকেটারই পেয়েছিলেন। নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। হয়তো সাময়িক সাফল্য পেয়েছিলেন, হয়তো একেই মনে করেছিলেন বিশাল কিছু একটা।

কিন্তু ড্রেসিং রুমে গ্রেটদের পাশে বসে তাদের কাছ থেকে শেখার মনসিকতা থাকে কয়জনের? নতুন কিছু শেখার চেষ্টা দেখা গেছে তার মধ্যে।
প্রতিনিয়ত নিজেকে নিজের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার অনন্য ক্ষমতা রয়েছে বিরাট কোহলির। ওয়ানডেতে এখন তার ১২ হাজার রান। টেস্টে তার রান ৭ হাজার। সব ধরনের ক্রিকেটে তার রানের গড় ৫০- এর উপরে।
এসব রানের রেকর্ড ভাঙতে ভাঙতে কোথায় কতদূর পর্যন্ত নিয়ে যান, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহ আমাদেরও।

লেখক : পলাশ সরকার

এখানে মন্তব্য করুন :