পরগাছা

পরগাছা

-পেট বানাইস নাই?

 -চাচি? এগুলা কি বলো।

-তো তোমার সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে শুনি। দুইদিন পর বাসায় আসছস। কিছু যে করস নাই কেমনে বুঝব? ডাক্তারের কাছে নিয়ে জানতে হবে? আরো চুন কালি মাখার জন্য?

লিলি আর পারে না, হাউমাউ করে কেঁদে উঠে।

-চাচি প্লিজ চুপ করো। পায়ে পড়ি তোমার।

লিলি বিছানা থেকে নেমে চাচির পায়ের কাছে গিয়ে পড়ে। চাচি স্থির আর শীতল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তাঁর চোখে মুখে প্রবল বিরক্তির ভাব। তাকে দেখলে মনে হচ্ছে এই মেয়ে এই মুহূর্তে মরে গেলে তার কিছুই যায় আসবে না।

-সর।

বলেই চাচি চলে যায় রুম থেকে। লিলি মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। কাঁদতে কাঁদতে তার হেঁচকি উঠে যায়। তবু চোখের পানি থামতে চায় না। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হওয়ার মত চোখের কোণা দিয়ে জল গড়াচ্ছেই। লিলির চাচি পারভিন আক্তার রান্নাঘরে রাগে ফুসতে থাকে। তার চোখ মুখ দিয়ে যেন আগুনের তাপ বের হচ্ছে। কাজের মেয়েটা ভয়ে ভয়ে পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছে। চুলায় চায়ের পানি দেওয়া। ফুটতে ফুটতে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। কাজের মেয়েটা বলতে সাহস পাচ্ছে না যে চা পাতা দিতে হবে।

পারভিন আক্তার হুঙ্কার দেওয়ার মত গলায় বলল,

 -কিরে পানি শুকায় যাচ্ছে চা পাতা দিচ্ছস না কেন? চোখ কই থাকে ? আসমানে? গরু গাধা কতগুলা নিয়ে আমারে থাকতে হয়।

বলে নিজেই চা পাতা দেয় পাতিলে। দুইকাপ চায়ের জায়গায় এক কাপ চা হয়। সেই চা কিছুটা প্লেটে পড়ে যায় ঢালতে গিয়ে। পারভিন আক্তার লক্ষ্য করেন তার হাত কাঁপছে। এমন রাগান্বিত অবস্থায় স্বামীর সামনে যাওয়া যাবে না। তাকে শান্ত স্থির নরম হয়ে যেতে হবে। নইলে গরম চা’ই হয়ত তার গায়ে ছুঁড়ে দিবেন লিলির চাচা। আচল দিয়ে প্লেট মুছে পারভিন আক্তার চা নিয়ে রওনা দেন স্বামীর রুমে।

রেফাত সাহেব বারান্দায় বসে পেপার পড়ছিলেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বারান্দায় বসে তিনি পেপার পড়েই কাটান। এমনিতেই তিনি গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। আজকে আরো বেশি গম্ভীর দেখাচ্ছে। পারভিন আক্তার স্বামীর চেহারা দেখেই বুঝলেন পরিবেশ ভাল না। পরিবেশ অবশ্য কাল রাত থেকে খারাপ। ঝড়ের আগের থমথমে অবস্থা।

গতকাল বিকেলে লিলি ঘরে ফিরে এসেছে দুদিন নিরুদ্দেশ থেকে। সে বুধবার কলেজে যাওয়ার নাম করে ঘর থেকে বের হয়ে এরপর আর আসে নি। কোথায় গেছে, কার কাছে গেছে, কেন গেছে, কেনই বা ফিরে এসেছে, কিছুই লিলির চাচা তাকে জিজ্ঞেস করেনি। তিনি রাতে বাসায় ফিরে এসে দেখেছেন লিলি ফিরে এসেছে। এরপর কারো সাথে একটা কথাও বলেন নি। দুইদিন ধরে যে খুব বলেছে তাও না। এমনকি খোঁজ খবরও নেননি। যা খোঁজ খবর নেওয়ার লিলির চাচিই নিয়েছেন। লিলির বান্ধবীদের থেকে যা যা জানা যায় জানতে পেরেছেন।

লিলির এক প্রেমিকের সাথেই সম্ভবত লিলি পালিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিল। সেই প্রেমিক হয়ত তাকে পালিয়ে যাওয়ার নাম করে ধোঁকা দিয়েছে। নইলে ফিরে আসবে কেন? যাক, সেগুলো পরেও লিলি থেকে জেনে নেওয়া যাবে। এখন যা জরুরি তা হচ্ছে লিলির চাচার মেজাজ ঠিক করা।

-চা নাও।

রেফাত সাহেব চা নিলেন। চুমুক দিলেন না। পারভিন আক্তার মনে মনে চাইছেন এখনই এখান থেকে সরে যেতে। কিন্তু পারলেন না।

গর্জনের থেকে খানিকটা কম গম্ভীর আওয়াজে রেফাত সাহেব বললেন,

-লিলি কিছু বলেছে?

পারভিন আক্তারের গলা শুকিয়ে গেল। লিলি কিছু বলে নি, তাকে সেভাবে কিছু জিজ্ঞেসও করা হয় নি। আজ সকালে জিজ্ঞেস করবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু জিজ্ঞেস করতে গিয়ে রাগে ঠিকঠাক কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেন নি। বরং আজেবাজে কিছু বলে এসেছেন।

 পারভিন আক্তারের নীরবতা দেখে রেফাত সাহেব আবার বললেন,

-এক সপ্তাহের মধ্যে লিলির বিয়ে দিচ্ছি আমি। লিলিকে বলে দিও। এই মেয়েকে আমি আর ঘরে রাখব না। আমার খেয়ে আমার পরে আমার সাথে বদমাইশি? ওর ভাগ্য ভাল ওকে আমি জ্যান্ত মাটিতে পুঁতে ফেলি নি। হারামজাদি!

পারভিন আক্তার ভয়ে একটু একটু কাঁপতে থাকেন। রেফাত সাহেবের এই মেজাজ তিনি চিনেন। তাদের নিজের ছেলেও বাপের এই মেজাজের জন্য অন্য জায়গায় গিয়ে থাকে। সেখানে লিলি তো পরের মেয়ে! ভাই মরে যাওয়াতে বাধ্য হয়ে তিনি লিলিকে নিজের কাছে রেখেছেন। কিন্তু কোনোদিন আদর ভালোবাসা দেননি। মাথার উপর একটা বোঝাই মনে করেছেন সব সময়। আজ তো সুযোগও পেয়ে গেছেন বোঝাকে চিরতরে ঝেড়ে ফেলার জন্য। লিলি সেই অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিল মেঝেতেই।

পারভিন আক্তার দুপুরে খাওয়ার আগে রুমে গেলেন কিছু কড়া কথা আবার বলার জন্য। এমন পড়ে থাকতে দেখে মায়া হলো। মায়া লুকাতে পারলেন কিন্তু দীর্ঘশ্বাস লুকাতে পারলেন না।

-লিলি, এই লিলি? উঠ। মরার মত শুয়ে আছস কেন? উঠ।

 লিলি ধরফরিয়ে উঠে। চুল মুখ ঠিক করে। কপাল কুঁচকে যেন একটা ইঁদুরের দিকে তাকাচ্ছে সেভাবে তাকিয়ে পারভিন আক্তার বললেন,

-লিলি,যা জিজ্ঞেস করবো ঠিকঠাক জবাব দিবি। কই ছিলি এই দুই দিন?

 লিলি চুপ থাকে।

-লিলি, আমার মেজাজ খারাপ করাবি না। কই ছিলি বল।

লিলি মৃদু আর কম্পিত কণ্ঠে বলে উঠে, শম্পার বাসায়।

পারভিন আক্তার আরো রেগে যান। শম্পাকে ফোন করেছিলেন তিনি, তাকে মিথ্যা বলেছিল যে লিলি এখানে আসে নি।

-তোর বান্ধবীও তোর মত বেয়াদব মিথ্যুক শয়তান। পারভিন আক্তার রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলেন। লিলির মাথা আরো নিচু হয়ে যায়।

 -কেন পালিয়ে গেছিলি বাসা থেকে?

লিলি আবার চুপ।

-চুপ করে থাকলে এখনই একেবারে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো । বল কেন পালিয়েছিলি, কই গেছিলি? কার কাছে গেছিলি? কোন নাগরের কাছে? লিলি চাচির হাত ধরে কাঁদতে শুরু করে আবার।

-চাচি দোহাই লাগে এভাবে বলিও না।

এক ঝটকায় হাত সরিয়ে ব্যঙ্গ গলায় বলেন,

 – তো কী মনে করছিলা তুমি? তুমি এভাবে পালাই যাবা, আবার ফিরে আসবা, আমরা তোমারে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিবো? তোমারে বসায় কোরমা পোলাও খাওয়াবো?

 লিলি দুলতে থাকে। দুলতে দুলতে হাত পা মোচড়াতে থাকে।

 – বল। সবকিছু খুলে বল। তোর এক প্রেমিক আছে তাই না? ওর কাছে গেছিলি? কী হলো, বলছস না কেন? ওর কাছে গেছিলি?

লিলি হুম করে একটা শব্দ করে।

– ওরে আমার প্রেমিকারে। প্রেম করতে কলেজে পাঠাইছি তোমারে? হ্যাঁ? তোমার চাচারে চিনো না তুমি? এই কথা শুনলে যে তোমার অস্তিত্ব রাখবে না সেটা জানো না?

লিলি চুপ।

 – এত বড় সাহস তোর! থাকস তো চাচার কাঁধে তার উপর প্রেম করার সাহসও পাস! লজ্জা করে না তোর? লিলি লজ্জায় অপমানে পারলে এখনই মাটির সাথে মিশে যায়।

এরপর আচানকই বলে উঠে,

– আমি ভুল করছি চাচি। আমি মারাত্মক ভুল করছি। যারে আমি বিশ্বাস করছিলাম সে আমারে ধোঁকা দিছে। এখন আমি কই যাব বলো। গলায় দড়ি দিলে সবাই খুশি হয় আমি জানি। তাই দিবো চাচি।

পারভিন আক্তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লিলিকে দেখেন।

– সেটা তোমার চাচাই অলরেডি রেডি করে ফেলছে।

 লিলি মাথা তুলে তাকায় চাচির দিকে।

 – মানে? – মানে তোর বিয়ে ঠিক করছে।

– চাচি!

– কী

– তুই কি মনে করছিস তুই এমন একটা আকাম করবি আর তোর চাচা তোকে কিছুই করবে না? এমনেতেও ছেলে দেখছিল এখন তো যারে পায় তারেই দিয়ে দিবে এই অবস্থা।

 লিলি চাচির পায়ে পড়ে যায়।

– চাচি তোমার পায়ে পড়ি। এমন হতে দিও না। আমি ভুল করছি আমি জানি। কিন্তু আমার বিয়ে দিও না এখন। দিও না চাচি। আমি কলেজটা শেষ করেই চাকরি নিয়ে কোথাও চলে যাব। তোমাদের আর বিরক্ত করবো না। প্লিজ চাচি। প্লিজ।

পারভিন আক্তার লিলিকে ধরে খাটে বসান। শান্ত গলায় বলেন,

 – এটা পালায় যাওয়ার আগে ভাবা উচিত ছিল। তোর চাচার সামনে কেউ কথা বলবে এমন বুক নিয়ে কেউ জন্মায় নাই।

পারভিন আক্তার চলে যান। রেখে যান একটা ক্রন্দনরত অসহায় ভুলে জর্জরিত বোকা মেয়েকে।

দুইদিন পরেই লিলিকে দেখতে একজন ছেলে আর তার বাবা আসে। ছেলেকে দেখেই পারভিন আক্তার স্তম্ভিত হয়ে যান। ছেলেকে তিনি চিনেন। ছেলে এই এলাকারই। এলাকার গুণ্ডা বলতে যা বুঝায়। বাপের টাকা পয়সা আছে, সেই দাপটে সারাদিন এই গলি সেই গলি ঘুরে বেড়ায় আর মেয়ে দেখলেই শিষ দেয়, বাজে কথা বলে, এমনকি বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিও করে।

এই ছেলের সাথে লিলির বিয়ে ঠিক করেছে লিলির চাচা? পারভিন আক্তার যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না। এরচেয়ে তো লিলির আসলেই গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত। যতক্ষণ তারা ছিল পারভিন আক্তার কিছুই বললেন না। কঠিন মুখে লিলিকে রেডি করলেন, সামনে নিয়ে গেলেন, চা নাস্তা দিলেন। এবং কঠিন মুখে তাদের বিদায়ও দিলেন। রাতে শোয়ার সময় পারভিন আক্তার তাই করলেন যা তিনি দীর্ঘ বত্রিশ বছর বিবাহিত জীবনে কোনোদিন করেননি।

 প্রশ্ন করলেন রেফাত সাহেবকে। এক অভাবনীয় সাহসযোগ্য কাজ করলেন তিনি। যেটা তিনি যদি আরো আগে করতেন তবে হয়ত সবার জীবন অন্যরকম হতো। হয়ত তার নিজের ছেলে তার সাথেই থাকত। অনেক ভেবেচিন্তে, বার বার পানি খেয়ে গলাটা ভিজিয়ে পারভিন আক্তার মৃদু টেবিল লাইটের আলোতে আর ফুল স্পীডে ফ্যানের বাতাসের নিচে প্রশ্ন করেন,

– এই ছেলের সাথে লিলির বিয়ে দেওয়া ঠিক হচ্ছে? রেফাত সাহেব চোখ বুজে শুয়ে ছিলেন। কিছুটা তন্দ্রাও এসেছিল। স্ত্রীর কথার আওয়াজে ঘোর কেটে গেলো। পাশ ফিরে স্ত্রীকে দেখলেন।

 – কী বললা?

একটা ঢোক গিলে পারভিন আক্তার আবার বললেন,

– এই ছেলে, মানে একে আমি দেখছি রাস্তাঘাটে।

– রাস্তাঘাটে দেখেছো মানে?রাস্তাঘাটে দেখলে কী হইছে? রাস্তাঘাটে মানুষ থাকে না?

– না আসলে ওকে অনেক মেয়েকে বিরক্ত করতে দেখছি। এমনকি আমি তো শুনছি…

– কী শুনছো? রেফাত সাহেবের বজ্রকঠিন গলা।

– শুনছি ওর নামে রেইপ কেইসও আছে। রেফাত সাহেব খানিক চুপ করে বলে উঠলেন,

– এত কথা তুমি কোথথেকে জানো? তোমার কাজ ঘরের কাজ করা। পুরুষ মানুষ কী করবে কী করবে না এগুলো নিয়ে তোমারে মাথা ঘামাইতে কে বলছে?

পারভিন আক্তার চুপ করে থাকেন।

– কী হলো বলছ না কেন? কে বলছে তোমাকে মাথা ঘামাইতে? মাথায় কী ঘাম বেশি হইছে? বেশি ঘাম হইলে আমি কিন্তু ঘাম ছুটাই দিবো একেবারে। এর সাথেই লিলির বিয়ে হবে, কথা ফাইনাল।

একটু পরে রেফাত সাহেবের নাক ডাকার আওয়াজ পাওয়া গেলো। পারভিন আক্তার উঠে লিলির রুমে গেলেন। দরজার আড়াল থেকে দেখলেন লিলি ঘুমোচ্ছে না। খাটের পাশে জানালায় মাথা ঠেকিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। হয়ত কাঁদছে, হয়ত কান্না শুকিয়ে গেছে। তাঁকে দেখে পারভিন আক্তারের বুকটা মোচড় দিলো। আহারে মেয়ে। কেন যে জন্ম নিলি। বাপ মা হারা হলি। আগাছা হলি তো হলি এমনই এক চাচার ঘরে হলি যার থেকে পাষাণ আর কেউ নাই।

দরজা ঠেলে পারভিন আক্তার ভেতরে ঢুকলেন। লিলি চমকে তাকাল। নীরবে নিথর হয়ে বসলেন পারভিন আক্তার বিছানায়।

– চাচি, কিছু বলবা?

চাচি কিছু বলল না। রাত বাড়ছেই। দুই বয়সের দুই নারী নিজেদের জীবনের অপারগতার জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলছে প্রকাশ্যে। কিন্তু কেউ কারোটা টের পাচ্ছে না।

– লিলি?

পারভিন আক্তার বলে উঠলেন।

 – হুম।

– তুই ঢাকায় যেতে পারবি?

 লিলি বুঝতে পারছে না চাচি কী বলছে? সেদিনের পর থেকে তার রুমের বাইরে যাওয়াও নিষেধ সেখানে ঢাকায় যেতে বলছে কেন চাচি তাঁকে? কে যেতে দিবে তাকে?

 – পারবি যেতে? লিলি বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করে,

 – ঢাকায় যাবো? কেন? চাচা যেতে বলেছে?

– না তোর চাচা না, আমি যেতে বলছি।

– তুমি? কেন?

 – কারণ এখানে বিয়ে হলে তুই মরে যাবি।

 লিলি হা হয়ে তাকিয়ে থাকে চাচির দিকে। পারভিন আক্তার লিলির দিকে না তাকিয়ে বলে,

– এই ছেলের নামে রেইপ কেইস আছে। এর সাথে আমি তোর বিয়ে হতে দিবো না। কিন্তু তোর চাচাকে মানাতে পারব না। সেই সাহস আমার নাই। লিলি কিছু বলছে না। বলতে পারছে না। নিজের কানকে সে বিশ্বাস করতে পারছে না।

 – তোকে কাল কিছু টাকা দিবো, আর আমার এক বান্ধবীর ঠিকানা দিবো। তাকে চিঠি লিখে দিবো। ওটা ওকে দেখালে ও সব ব্যবস্থা করবে। ওর কাছে থেকে তুই বাকি পড়ালেখা শেষ করবি, চাকরি করবি। এখানে আর কোনোদিন ফিরে আসবি না। এদিক আমি সামলাবো। তুই শুধু এখান থেকে বের হ। এবার পারভিন আক্তার লিলির দিকে তাকালেন। যে দৃশ্য কোনোদিন লিলি দেখে নি সেই দৃশ্যই লিলি এখন দেখছে। গভীর মায়া আর স্নেহ নিয়ে তার চাচি তার দিকে তাকাচ্ছেন। প্রবল ভালোবাসা নিয়ে চাচি তার হাত ধরছেন।  হাত ধরে বলছেন,

– পারবি না মা?

 লিলির চোখ ছলছল করে উঠল, বলল,

– পারবো। পারবো চাচি। আর কারো জন্য পারি না পারি তোমার জন্য পারব।

পারভিন আক্তারের চোখেও জল উঁকি দেওয়া শুরু করল। তিনি চাচ্ছেন না এই দৃশ্য লিলি দেখুক। তিনি দ্রুত উঠে চলে গেলেন।

পরদিন সন্ধ্যায় রেফাত সাহেব বাসায় ফিরে জানলেন লিলি আবারো পালিয়ে গেছে বাসা থেকে। কিন্তু তাঁকে কড়া পাহারায় রাখা হয়েছিল। সে কীভাবে পালিয়ে গেলো সেটা জানতে তিনি পারভিন আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ঘরের দরজা বন্ধ করে।

 অনেকক্ষণ পর যখন দরজা খুলে পারভিন আক্তার বের হয়ে বাথরুমে গেলেন, আয়নায় দেখলেন তার চোখের আশপাশ কালো হয়ে ফুলে উঠেছে।

 কিন্তু একটু পরেই ঠোঁটের কোণে খানিক হাসির আভা দেখা দিলো। ভাবছেন, নিজেকে না পারুক, অন্তত লিলিকে তো এই দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পেরেছেন।

লেখক : ফারজানা নীলা, বেসরকারি কর্মকর্তা ও গল্পলেখক।

এখানে মন্তব্য করুন :