দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন

দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন

অ্যামনেশিয়া এমন এক রোগ যে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি স্মৃতি হারিয়ে ফেলেন। সারাক্ষণ হাতড়ে বেড়ান সেই স্মৃতি এখানে সেখানে। আবার সেই মানুষটিই যদি হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে পরিস্থিতিটি সাদামাটা ও একরৈখিক থাকে না। জটিল হয়ে পড়ে দৃশ্যপট।

গোলকধাঁধার মতো এমন চ্যালেঞ্জে ভরা সিনেমা ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’। রহস্যময় থ্রিলার সিনেমায় টানটান উত্তেজনা বজায় রাখতে যত টুইস্ট প্রয়োজন তার দেখা মিলেছে এর ট্রিজারে। সিনেমায় নতুন এক পরিণীতি চোপড়ার সন্ধান পাই। যাকে দর্শক এর আগে কখনো এমন চরিত্রে দেখেননি।


সিনেমার নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, এখানে ট্রেনযাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লন্ডনে ট্রেনে যাতায়াতের সময় মিরা কুমারী (পরিণীতি চোপড়া) দেখতে পান এক তরণীকে (অদিতি)। মিরা কিছুদিন আগে চাকরি হারিয়েছেন, তার আবার মদপানের অভ্যাসও রয়েছে।
এই অদিতিকে দেখে টুকরো টুকরো সাদা মেঘের মতো হারানো স্মৃতিরা সামনে আসার চেষ্টা করে তার মনে। কিন্তু সেই টুকরো টুকরো স্মৃতি সুতোয় গেঁথে মালা বানাতে অসমর্থ্য মিরা কুমারী।

সিনেমার একটি মুহূর্তে পরিণীতি চোপড়া । ছবি : টাইমস অব ইন্ডিয়া

হঠাৎ একদিন খুন হন অদিতি। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন মিরা। খুনের রহস্য উন্মোচনে তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
ট্রিজারে মিরাকে দেখা যায় কখনো ট্রেনের ভিতরে, কখনো রাস্তায় আবার কখনো অন্ধকার গভীর বনে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন ভীত সন্ত্রস্ত চেহারায়। তার দৃষ্টি উদভ্রান্ত, চুল এলোমেলো ও মাথায় গভীর জখমের দাগ। আলুথালু পোশাক।

উত্তেজনা, সন্দেহ, রহস্য-রোমাঞ্চের আড়ালে ঘটনার পরিণতি কী হবে তা নিয়ে কোনো পূর্বাভাষ নেই। এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা রিভু দাশগুপ্ত।

সিনেমাটি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের তা বোঝা গেছে, পরিণীতা চোপড়ার এক সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, এই চলচ্চিত্রের কাহিনিটা এমন যে ,আমি আগে কখনো এ ধররনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করিনি, কিংবা এমন গল্পও পড়িনি। আমার ধারণা দর্শকও এমন সিনেমা দেখেননি।

পলা হকিংসের উপন‌্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে কাহিনি। ছবি : উইকিপিডিয়া

বিখ্যাত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক পলা হকিংসের দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন উপন্যাস থেকে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। একই নামে ২০১৬ সালে আরেকটি সিনেমা নির্মিত হয় হলিউডে।
সিনেমাটি আসছে রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে। যার দৈর্ঘ্য ১১২ মিনিট। সিনেমায় উল্লেখযোগ্য চরিত্রে থাকছেন অদিতি রাও হায়দারি,কীর্তি কুলহারি ও অবিনাশ তিওয়ারি।


ট্রেলারে এক ভিন্ন পরিণীতাকে দেখে মুগ্ধ চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। একেবারে ভিন্নলুক তার। এখন পুরো সিনেমার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে আসলে কী তিনি খুনি নাকি পরিস্থিতির শিকার। অপেক্ষা করুন ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

লেখক : পলাশ সরকার

এখানে মন্তব্য করুন :