ছেঁড়া দ্বীপে স্নোরকেলিং

ছেঁড়া দ্বীপে স্নোরকেলিং

প্রথম রাতে ক্যাম্পিং করেছিলাম ড্রিমনাইট রিসোর্টে। সকাল সকাল আমাদের রিসোর্ট ছেড়ে হাঁটা দিলাম ছেঁড়া দ্বীপের উদ্দেশ্যে। রাতে ও ভোরে বৃষ্টি পড়াতে পানি ঘোলা হয়ে গেলো। তাই মনের দু:খে ধীরে ধীরে হাটছিলাম।

এর মধ্যে রোদ উঠে ঝকঝকে আবহাওয়া, চেনাই যাচ্ছে না আর। অনেকদিন পর এমন নীল সমুদ্র আর মিয়ানমারের পাহাড় দেখলাম।হেঁটে হেঁটেই পৌছালাম সাদ্দাম ভাইয়ের বাসায়। পথে কয়েকবার ডাবপানের বিরতি, তীব্র গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত প্রায়।

সাদ্দাম ভাইকে আগেই বলা ছিলো, দুপুরের খাবার রান্না করে রেখেছে আমাদের জন্য। মেন্যু আলু ভর্তা, ডাল, সামুদ্রিক তেলাপিয়া ভাজি, সাদা কোরাল রান্না। একে তো এতো পথ হেঁটে এসেছি তার উপর বাজে প্রায় ২ টা, গোগ্রাসে গিললাম সবাই।

খাওয়া দাওয়া শেষ করে রওনা দিলাম স্নোরকেলিংয়ের জন্য। সাদ্দাম ভাইয়ের কাছ থেকে দুটো সেট অতিরিক্ত ভাড়া নিলাম ঘন্টা ৩০০ টাকা করে, আমার আর রিমনের নিজের সেটই ছিলো।

এবার নেমে পড়লাম ছোট্ট একটা ল্যাগুনে। ভাটা চলছে, স্নোরকেলিংয়ের জন্য উপযুক্ত সময়, তবে আকাশে রোদ কম আবার গত রাতের বৃষ্টিতে পানি একটু ঘোলা। তবুও ভালোই দেখা যাচ্ছিলো। প্রথমে আমি নেমে একধাপ ঘুরে আসলাম। তারপর নামলো রিমন।

আমরা দুজন যেহেতু আগে থেকেই স্নোরকেলিং জানি। এবার একজন একজন করে দলের সবাইকে স্নোরকেলিং শিখিয়ে দিলাম। এমন মজা পেয়ে গেলো তারা, আর পানি থেকে উঠেইনা। এর মধ্যে ভাটার কারণে এক হাঁটু পানিও আর নাই, এর মধ্যেও মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে সবাই।

মাছের বড় ঝাঁকটা চোখে পড়েছিলো রিমনের। সেই আমাকে ডিরেকশন দেবার পর আমি ঝাঁপ দিয়ে পড়ে ওই ঝাকের মাত্র তিনটা মাছ দেখতে পাই। এক কেজি ওজনের তিনটা লাক্ষা গোত্রের মাছ। এছাড়া সামুদ্রিক কৈ, এঞ্জেল ফিস, সামুদ্রিক তেলাপিয়াসহ অসংখ্য মাছ দেখতে পাই।

জীবিত কিছু কোরালও দেখতে পাই। তবে পানির স্বচ্ছতা কম হওয়াতে ভিডিও ভালো হয়নি খুব একটা। ফিরে এসে সমুদ্রের পারে রাখা কটে এসে ঘুম দিলাম একটা।

সন্ধ্যার পর ঘুম ভাংগলো, সাদ্দাম ভাই বললো আজ এখানেই থেকে যান। তাঁবু যেহেতু আছে তাই নির্দ্বিধায় রাজি হলাম। উনার বাসার পাশে সৈকতে তাঁবু ফেলবো ভাবছিলাম। একটু পরে দেখি জোয়ার এসে সব তলিয়ে গেলো। শুধু উনার বাড়িটাই উঁচু করাতে সেখানে পানি ঢুকেনি, চারদিকে পানি।

সাদ্দাম ভাই গেলো ট্রলার নিয়ে বাজার করতে।এরপর শুরু হলো ঝড় সাথে তুমুল বৃষ্টি। আমরা উনার বাসার ভিতরে একটা মাদুর পেতে সেখানেই আড্ডা দিচ্ছি। এর মধ্যে সাদ্দাম ভাইয়ের কোন খোঁজ নেই আর। ক্ষুধায় অস্থির হয়ে বাসায় রাখা সব ডাব সাবাড় করে দিলাম।

রাত ১২:৩০ টায় উনারা ফিরলেন। ঝড়ের মুখে ট্রলার ডোবার অবস্থা হয়েছিলো। তাই ট্রলার বেঁধে রেখে অপেক্ষা করতে হয়েছে সব শান্ত হবার।

রাত ১ টা নাগাদ রান্না শুরু করে রাত ২ টা নাগাদ খাওয়া দাওয়া করে সে বাসায় গণ বিছানায় ঘুমিয়ে পড়লাম আমরা। সকালে উঠে দেখি আবার জোয়ার আসছে। তবে অমবশ্যার রাতের মতো তীব্র না জোয়ার।

নাস্তা করে সেখান থেকে ফিরে ঘাটে এসে দেখি শেষ ট্রলার ছেড়ে যাচ্ছে। দৌড়ে ট্রলারে উঠলাম আমরা। সেখানেও কিছু নাটক হলো, সে গল্প অন্য দিন।

মনে রাখবেন: সেন্টমার্টিনে যেয়ে কোন ধরণের অপচনশীল দ্রব্য পানিতে/দ্বীপে ফেলবেন না। স্নোরকেলিং করতে হলে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে নামবেন। কোন ভাবেই যাতে জীবিত কোরালের ক্ষতি না হয় সেটা লক্ষ রাখবেন।

লেখা ও ছবি : মুহাম্মদ হোসাইন সবুজ, কোঅর্ডিনেটর, উইমেন এন্ড গার্লস এমপাওয়ারমেন্ট প্রোগ্রাম, কেয়ার বাংলাদেশ।

এখানে মন্তব্য করুন :