একাকী যাত্রা

একাকী যাত্রা

ট্রেনটা ভালো জোরে ছুটছে। আমার কামরায় শুধু আমরা দুজন। উল্টোদিকের কাউচে বসে থাকা ভদ্রলোক যাত্রার শুরু থেকেই ঝিম মেরে আছেন। বোঝাই যাচ্ছে কোনো কারণে উনার মন খুব খারাপ।

 আমি যদিও যাত্রাপথে অপরিচিত মানুষের সাথে বেশি আলাপ করি না, কিন্তু আমার নীরব সহযাত্রীর উদাসীনতা দেখেই কি না কে জানে, কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে।

এমনিতেও গন্তব্যে পৌঁছাতে হিসেবমত আরো ঘন্টা চারেক লাগার কথা। তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে বলে কথা। পথে কোন অঘটন ঘটলে তো আর কথাই নেই। চার ঘন্টা শেষতক গিয়ে কত ঘন্টায় ঠেকবে, খোদাই মালুম। দোয়া করছি এমন কিছু যেন না হয়।

 তবে ফার্স্ট ক্লাস কামরার আভিজাত্যের সাথে যে নীরবতা ফ্রি পাওয়া যায়, তা আমার সইছে না। যাত্রার শেষ পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকতে হবে, এই ভয়েই সামনে বসে থাকা গোমরামুখোকে জিজ্ঞেস করে বললাম- বেড়াতে যাচ্ছেন, না কাজে?

ভদ্রলোক যেন গভীর ধ্যান থেকে আচমকা জেগে উঠলেন। কিছুক্ষণ অপ্রস্তুত মুখে তাকিয়ে থাকার পর বললেন, আসলে দুটোই।

তারপর আবার চুপ। আমার আগ্রহ জেগে উঠল।

আবার জিজ্ঞেস করলাম- এই রাস্তায় প্রায়ই যাওয়া আসা করেন বুঝি?

উনি আবারো কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত স্মিত হেসে দিলেন।

‘বুঝতে পারছি আপনার কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে। আমিও যাত্রাপথে কথা না বলে থাকতে পারিনা। কিন্তু আমার কথা সব হারিয়ে গেছে। আমার স্ত্রী মারা গিয়েছেন আজ ১৫ দিন হলো। সেই থেকে আমি কথায়, কাজে খেই পাচ্ছি না।’

ওহহো, আই অ্যাম সো স্যরি। থাক, আপনাকে আর ডিসটার্ব করবো না। আমাকে মাফ করে দিবেন। আমার অপ্রস্তুত হবার পালা। কিন্তু ভদ্রলোক এবার আর থামলেন না।

হয়তো পরিচিত পরিবেশ থেকে অব্যাহতি পেয়ে একদম অচেনা অজানা একজন মানুষের কাছে শোকার্ত হয়ে থাকার বাধ্যবাধকতাটুকু উনি আর অনুভব করছেন না। তাই নিজ মনে বলতে শুরু করলেন। আমি মনযোগী শ্রোতার মত শুনে যেতে লাগলাম।

‘আমি যাচ্ছি আমার শ্বশুড়বাড়িতে। যদিও এখন সেখানে কেউ থাকে না। আমার স্ত্রী মৃত্যুর কিছুদিন আগে তার শৈশবের ভিটে মাটিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য খুব আবদার করেছিল। কিন্তু ওর শরীর বেশি খারাপ থাকায় সেটা করা যায়নি।’

‘এখন ও নেই, কিন্তু আমার মন বলছে আমি যদি ওর বাড়িতে যাই, হয়ত আমার ভেতরটা একটু শান্ত হবে। ওর ক্যান্সার হয়েছিল। ডাক্তার দুবছর সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু এক বছরের বেশি সে আমাদের আর পেরেশান করতে চায়নি। ওর স্বভাবটাই যে ছিল এমন। কখনো কাউকে জ্বালাতন করতো না। বরং তার আদরে আহ্লাদে আমার অভ্যাসই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সারাক্ষণই ওর কাছে এটা সেটা বায়না করতাম। ‘

এতটুক শুনে নিজের পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল। আমার প্রথম স্ত্রী মধু-তার আবদারের কখনো শেষ ছিল না- আমার সাথে বিয়ের পরে সাতটি বছর সে শুধু কানের কাছে ঘ্যানঘ্যানই করেছে।

তুমি আমাকে সময় দাও না, কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওনা, এই শাড়িতে আমাকে কেমন মানিয়েছে-বললে না তো!, তোমার পছন্দের হাঁসের মাংস রাঁধলাম, খেয়ে বললে না-কেমন হয়েছে?- এমন কোন দিন নাই, যে সে অভিযোগ না করে থাকেনি।

সারাদিন বাসায় বসে ঘরকন্না করে আর টিভিতে বাংলা ছবি দেখে এমনই নাটুকেপনা করত সবসময়। আরে, আমি সারাদিন অফিস করে বাসায় ফিরেছি, খেয়েদেয়ে তো ঘুমই দিব, তোমার সাথে কিসের এত প্যাঁচাল পাড়ব? মেয়েদের শাড়ি, গয়নার আমি কি বুঝি? তুমি সুতির শাড়ি পরলেও যা, কাঞ্চিপুরম পরলেও তা- মধু মধুই থাকবে, মাধুরী দীক্ষিত তো আর হয়ে যাবে না! এত হা-বিতং করে প্রশংসা করে কী হবে?

বাঁচতে হলে খেতে হয়, আর সেজন্য রান্নাবাড়া করা লাগে। প্রতি বেলা খেতে বসে রান্নার তারিফ করা লাগবে তাই বলে? তবে এসবও একসময় মানুষের গা সওয়া হয়ে যায়। ওর আর আমার ছাড়াছাড়ি এসবের জন্য হয়নি। সে গল্পে পরে আসছি। আগে আমার সহযাত্রীর গল্পটা শুনে নেই।

‘জানেন, এই যে আমি একা একা ট্রেনে চড়ে কোথাও যাচ্ছি, এটা আমার স্ত্রী দেখলে খুব খুশি হত। আমি তো বিয়ের আগে খুব ঘরকুনো ছিলাম। এমনকি বিয়ের পরেও ওকে নিজ ইচ্ছায় কোথায় ঘুরতে নিয়ে যেতাম না। তবে ও আমাকে আস্তে আস্তে ঘুরাঘুরির মজা শিখিয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও আমি আর বাসায় বসে রেস্ট নিতে চাইতাম না একসময়। ওর সাথে ঘুরাঘুরি করতে পারলেই বরং আমার অনেক ফ্রেশ লাগত। ’

‘পরের সপ্তাহের কাজের জন্য মনে হত এনার্জি পেয়ে যেতাম। বেচারীর জীবনে চাওয়া পাওয়া ছিল খুবই অল্প। আমি যদি বলতাম-বাহ, এই শাড়িতে তোমাকে খুব মানিয়েছে তো!-ব্যাস, সে মনে হত জন্মের মত খুশি হয়ে যেত! তার রান্নার হাত ছিল অসাধারণ ভালো।’

‘ আমিও প্রতি বেলায় খেয়ে তার তারিফ করতাম,যাতে পরের বেলায় আরো মজার কিছু খেতে পারি! রান্নার প্রশংসা শুনলে কী যে খুশি হত সে, বলার বাইরে! অফিস থেকে ফেরার পথে সামান্য একটু চানাচুর মাখা, বা একটা বেলী ফুলের মালা নিয়ে আসলে খুশিতে কেঁদে দিত। বড় কোন গিফট আমাকে কোনদিন দিতেই দিতোনা। সে বলতো- আমিই নাকি তার জীবনের সবচেয়ে দামী গিফট!’

এবার আমি একটু অস্বস্তিতে গলা খাঁকারি দেই। ভদ্রলোক দেখি স্বভাবে আমার বিপরীত। বউকে তোয়াজ করতে পছন্দ করতেন। তবে এটা ঠিক, মধু আমার কাছে দামী কোন গিফট কখনো চাইতো না। সেই তুলনায় আমার বর্তমান জীবনের চিত্র মাথায় এসে যাওয়ায় আমি একটু বিব্রতই হলাম।

শামীমার সব কিছু চাই দামী দামী। গয়না কিনলে স্বর্ণের, শাড়ি কিনলে গাদোয়াল। তবে তাকে এসব দিয়ে দিলেই সে খুশি থাকে। গায়ে চড়িয়ে আমাকে দেখিয়ে প্রশংসা শুনতে আসে না। আমার বাসায় এখন বুয়া রান্না করে। কাজেই রান্নার মানের বিচারক হওয়ার দায়িত্ব থেকেও আমার অব্যাহতি মিলেছে। সে তার মত থাকে, আমি আমার মত। আমি আমার ঝঞ্ঝাটহীন জীবন পেয়েছি, আর কী চাই?

‘আমার বাচ্চারা খুব ভেঙ্গে পড়েছে ওদের মাকে হারিয়ে। যদিও ক্যান্সার ধরা পরার পর থেকেই আমার স্ত্রী আমাদের সবাইকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে চেয়েছে। ওর অনুপস্থিতিতে আমরা কীভাবে চলব, সব শিখিয়ে পড়িয়ে যেতে চেয়েছে। কিন্তু মায়ের অভাব কি কিছু দিয়ে পূরণ হয়?’

‘সে তো ছিলই এমন মায়াবতী মা। বাচ্চাদের জন্য কত কষ্টই না করেছে। বাচ্চারা যে এত বড় হয়েছে, তাও তাদের প্রতিটি বিষয় কী যত্নের সাথে নিজ হাতে দেখভাল করে দিত সে। আমি মাঝে মাঝে বলতাম-বেশি আদর করে অকর্মা বানিয়ে ফেলবে তো ওদের! ও বলতো- অকর্মা হলেও আমার বাচ্চা তো আমি পাবো! ‘

উনি দম নেওয়ার জন্য একটু থামলে আমি ভাবতে বসলাম। উনার স্ত্রীর এই কথার মানে আমি মনে হয় বুঝেছি। সন্তানহারা পিতামাতা মাত্রেরই এ কথা বুঝার কথা। সন্তান যেমনই হোক, শুধু চোখের সামনে থাকলেও যে শান্তি লাগে, তা দুনিয়ার আর কিছুতে পাওয়া যায় না।

মধুর সাথে আমার ছাড়াছাড়ি হয়েছিল আমাদের বাচ্চাটা মারা যাওয়ার পর। পোড়াকপালী, বেখেয়ালি মেয়েটা আমার বাচ্চাটাকে বাঁচাতে পারেনি। আমি তো অফিসে থেকে খেয়াল করতে পারিনি, না জানি সারাদিন ঘরে বসে কী করেছে, বাচ্চার যত্ন নিয়েছে, না অবহেলায় ফেলে রেখেছে- মানিক আমার নিউমোনিয়া বাঁধিয়ে দুমাস পরেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিল।

কোথায় বাচ্চা খোয়ানোর জন্য অনুতাপ করবে, উল্টো অভিযোগ করে বসল- আমার বাচ্চার এই অবস্থার জন্য নাকি আমি, আর আমার পরিবার দায়ী। আমি মাথা ঠান্ডা রাখতে পারিনি। মধু যাবার বেলা এক ফোঁটা চোখের পানিও অপচয় করেনি।

তা দেখে আমার আত্মীয়-স্বজনরাও বারবার বলছিলেন-  তাইফ, তুই বাবা যা করেছিস, ভালোই করেছিস। ওর অন্তরে তোর জন্য, এই সংসারের জন্য কখনোই মায়া মমতা ছিল না। কেমন নির্বিকার মুখে ঘর থেকে বের হয়ে গেল, একটিবার তোকে অনুনয়ও করলোনা, বিয়েটা ভেঙ্গে না দেওয়ার জন্য।

ঘরের অশান্তি বিদেয় করে আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচার বদলে কেমন যেন অস্বস্তিতে ভুগতে লাগলাম। মধু কতবড় অভিযোগ করল আমার নামে- আমার কিপ্টামির জন্য নাকি আজ এই দুর্গতি। আমার মা চাচীরা কী বাচ্চা পালেন নাই? তাদের কথা মতই তো আমি ওকে চলতে বলেছি। তারাই তো বললেন- ডায়াপার পরালে বাচ্চার কোমর চিকন হয়ে যায়। আমাকে, আমার ভাইবোনকে কাঁথা-ন্যাপি পরিয়েই বড় করেছেন।

তাহলে মধু কোন নবাবের মেয়ে, কাঁথা পরিয়ে বাচ্চা পালতে পারলোনা, ঠান্ডা লাগিয়ে ছাড়লো? উল্টো আমাকে কিপ্টে বলে ডায়পার না কিনে দেওয়ার জন্য! বন্ধু-বান্ধবরা স্বান্তনা দিল- ও কিছু নয়, কেউ নিজের ঘাড়ে দোষ নিতে চায় না, তাই তোকে দোষ দিয়ে গেল। মন খারাপ করিস না। কটা দিন যেতে দে। আবার বিয়ে শাদী কর। দেখবি, সব ঠিক হয়ে যাবে।

ভাবনার জগত থেকে আবার ফিরে আসলাম আমার সহযাত্রী কথা শুরু করায়।

‘আল্লাহর রহমতে আমার বৈষয়িক অবস্থা ভালোই। বাচ্চাদের জন্য খরচের ব্যাপারে আমি কখনো হিসেব করিনি। আমার দুটো বাচ্চাকেই জন্মের সাথে সাথে ডায়পার পরিয়েছি, যতদিন না তারা পটি ট্রেইন্ড না হয়। কিন্তু আমার স্ত্রী বাচ্চাদের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকত। সারারাত তার ঘুম হতো না, বাচ্চা ডায়পার বেশি ভিজিয়ে ফেলল কিনা, চেক করতে করতে। তাকে কখনো বুঝাতেই পারিনি,- ডায়পার পরা থাকলে বাচ্চার ঠান্ডা লাগার ভয় নেই। ন্যাপি-কাঁথা হলে না হয় চিন্তা ছিল। তুমি একটু শান্তিতে ঘুমাও তো। না! তার কথা হলো, যদি ডায়পার লিক করে? যদি বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যায়?’

আমি কী বলবো ভেবে পাই না। উনি যেভাবে বিষয়টা বললেন- সেভাবে তো কখনো ভাবিনি। তাহলে কি মধুর অভিযোগ সত্যি ছিল? ধুরো, কি ভাবছি? বাংলাদেশে কত মানুষ ডায়পার এফোর্ড করতে পারে না, অথবা ইচ্ছে করেই পরায় না। তাদের সবার বাচ্চা কি মারা যাচ্ছে? তবে কিছু হিসাব আমি কখনো মিলাতে পারিনি।

শামীমার সাথে গত বিশ বছরের ঘরকন্যায় আমি আর কখনো বাবা হতে পারিনি। দুজনেই অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। কারোরই কোন সমস্যা নেই। তবে কার দীর্ঘশ্বাসের অভিশাপ লাগলো আমার- এ উত্তর হয়তো জেনেও আমি বেখবর!

ট্রেনটা আস্তে আস্তে গতি কমিয়ে ফেলছে। সামনে একটা স্টেশন। আমার সহযাত্রী নড়েচড়ে বসলেন। উনি নাকি এখানেই নেমে যাবেন।

যাবার আগে বললেন- ভাই, আপনাকে চিনি না, জানি না, অনেকগুলি কথা বললাম। কিছু মনে করবেন না। আসলে আমার স্ত্রী আমার জীবনে এমন শান্তির পরশ ছড়িয়ে রেখেছিল, ওকে ছাড়া আমার দিনরাত গুলি একদম বিবর্ণ হয়ে গেছে। তাই আবেগী হয়ে আপনার সাথে একান্ত ব‌্যক্তিগত অনেক কিছু শেয়ার করে ফেলেছি। ওর জন্য দোয়া করবেন-আল্লাহ যেন ওকে বেহেসতের সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন। আমি জানি, ও এখন সেখানেই আছে। তার ছেলের সাথে খেলছে।

‘ছেলে মানে? আপনাদের কোন ছেলে কি মারা গিয়েছে?’

‘আমাদের নয়। ওর। মধুর আগে একটা বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে ওর একটা চাঁদপানা ছেলে ছিল।’

‘মধু? আপনার স্ত্রীর নাম মধু? কীভাবে মারা গেল উনার বাচ্চা? কার দোষে?’

‘কার দোষে হবে ভাই? হায়াত ছিল না, তাই বাঁচেনি। আর মধু কি কারো দোষ ধরার মানুষ? আমার সাথে এত বছরের সংসারে ভুলেও কখনো তার আগের স্বামী, শ্বশুড়বাড়ির বদনাম করেনি। আমি যে জিজ্ঞেস করতাম, তা নয়। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু কুটিল আত্মীয় থাকেনা?-তারা মধুকে জিজ্ঞেশ করত-আগের সংসারটা টিকেনি কেন? কার দোষে? মধু উত্তর দিতো না, মাথা নিচু করে হাসতো।’

‘আমি ওকে যতটুকু চিনেছি, তাতে তো বুঝতেই পেরেছি-দোষ যদি কারো থেকে থাকে, তা তার সাবেক স্বামীরই হবে। ভদ্রলোকের জন্য আমার আফসোস হয়। এমন হীরের টুকরোকে ধরে রাখতে পারলোনা। তবে আমি উনাকে ধন্যবাদও দেই। উনার সাথে ছাড়াছাড়ি না হলে আমি আমার মধুকে কোথায় পেতাম?’

ভদ্রলোক নেমে গেলেন। কামরায় আমি এখন একা। ট্রেন ছুটে চলেছে। ট্রেন একসময় থামবে। তবে আমার একাকী যাত্রা কখনো থামবে না।

লেখকঃ মেহজেবীন আক্তার

পিএইচডি গবেষক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

এখানে মন্তব্য করুন :