ইন্দুবালা ভাতের হোটেল

ইন্দুবালা ভাতের হোটেল

খুলনার মেয়ে ইন্দুবালার বিয়ে হয়েছিল কলকাতায় এক নেশারু দোজবরের সঙ্গে। মনের ভালোলাগা চাপা দিয়ে সব ভুলে চলে গেলেন কলকাতায়।

তিনটি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে বিধবা হলেন। পাওনাদাররা দরোজায়, ছেলেমেয়েদের মুখে তুলে দেওয়ার মতন এককণা খাবার নেই ঘরে, পাশে দাঁড়ানোর মতন কেউ নেই।

 এমন অসহায় অবস্থায় এক মাছ বিক্রেতা মহিলা একদিন দুটো টাকা হাতে দিয়ে বললে মা তোমার ঘরে আজ ভাত খাবো। ইন্দুবালা যত্ন করে খাওয়ালেন তাকে।

খুলনায় ঠাম্মার কাছে শিখেছিলেন এই বাংলার রান্না আর বিয়ের পর শাশুড়ির কাছে শিখেছিলেন পশ্চিম বাংলার রান্না।

পরদিন সেই মহিলা আরো তিনজনকে সাথে নিয়ে এলো। এভাবেই যাত্রা শুরু ইন্দুবালা ভাতের হোটেলের।

এখন ইন্দুবালার বয়স সত্তর। এই বয়সেও তিনি নিজ হাতে রেঁধে বেড়ে খাওয়ান সকলকে। সেই যে বিয়ে হয়ে এসেছিলেন এবাড়িতে একদিনের তরেও আর কোথাও যান নি।

না তিনি ধম্ম করেন না, মন্দিরে তেমন যান না, কাশি গয়ায় যাননি কোনদিন। কারণ, তিনি অতিথির মাঝেই ঈশ্বরকে দেখেন। তাদেরকে পেট পুরে তৃপ্তি নিয়ে খেতে দেখে শান্তি পান। তিনি বিশ্বাস করেন সেই বাণী জীবে প্রেম করে যেজন সেজন সেবিছে ঈশ্বর।

 মাঝেমাঝেই ইন্দুবালা স্মৃতিকাতর হয়ে পাঠককে নিয়ে যাচ্ছেন তার ছোটবেলার খুলনায়। অকপটে বলছেন অনেককথা যা কোনদিন কাউকে বলেননি।

কল্লোল লাহিড়ীর লেখার স্টাইল ভালো। পড়তে আরাম লাগে।

সমস্যা একটাই, খাবারের বর্ণনা পড়লে মুখে জল আসে।

লেখা ও ছবি : সুখ পাখি, সহকারী ব্যবস্থাপক, ঢাকা বাতিঘর

এখানে মন্তব্য করুন :